দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে দুটি জেলায় বন্যা শুরু হয়েছে এবং আরও কয়েকটি জেলা ঝুঁকিতে রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন এই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চলে ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলেও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে এসব এলাকার নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলে পানি জমে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, এই বৃষ্টিপাত আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
এর আগে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে নিকলীতে, ১৬১ মিলিমিটার। এছাড়া ভোলায় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, বৃষ্টিপাত একটানা না হয়ে থেমে থেমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হতে পারে এবং এই ধারা আগামী ৪ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের চারটি নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীগুলো হলো—ভুগাই, কংস, মনু ও সোমেশ্বরী। এর মধ্যে ভুগাই, কংস ও সোমেশ্বরী নদী নেত্রকোনা জেলা-র ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
এছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও এক থেকে দেড় মিটারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, এসব নদী আকারে ছোট হওয়ায় ভারী বৃষ্টিপাতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পায়।
তবে বৃষ্টিপাত কমে গেলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।