সকল মেনু

চাল-চিনি-ডিম-পেঁয়াজে নতুন চাপ, কিছুটা স্বস্তি মুরগি-সবজিতে

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। সপ্তাহের ব্যবধানে চাল, চিনি, ডিম ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। তবে আগে অস্বাভাবিক উচ্চতায় থাকা সোনালি মুরগি ও কয়েক ধরনের মৌসুমি সবজির দাম কিছুটা কমেছে। সব মিলিয়ে বাজারে মিশ্র চিত্র থাকলেও বাড়তি চাপ পড়েছে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাঝারি মানের চাল—বিআর-২৮ ও পায়জাম—কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা ও সরু চালের দামও কিছু বাজারে বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন ব্যয় বাড়ায় চালের বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

কারওয়ান বাজারের এক চাল বিক্রেতা বলেন, বাজারে নতুন আমনের চাল রয়েছে, বোরো ধান কাটাও শুরু হয়েছে, তাই চালের দাম বাড়ার বাস্তব কারণ কম। তবে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে।

চিনির বাজারেও বেড়েছে দাম। খোলা চিনি কেজিতে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়ে এখন ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেট চিনি ১১০ টাকার আশপাশে রয়েছে।

পেঁয়াজের দামও আবার ঊর্ধ্বমুখী। এক সপ্তাহ আগে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারে চাপ আরও বেশি। ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহখানেক আগে ১০০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে ছিল। অনেক এলাকায় হালি ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।

তবে মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ব্রয়লার কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় এবং সোনালি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও সোনালির দাম ৪০০ টাকার ওপরে ছিল।

সবজির বাজারেও দাম কমেছে। করলা, বেগুন, পটোল, ঢ্যাঁড়স ও বরবটির মতো গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বেশির ভাগ সবজি এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে চিচিঙ্গা, কাকরোল ও সজনে ডাটার দাম তুলনামূলক বেশি।

বিক্রেতারা বলছেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় সবজির বাজারে স্বস্তি এসেছে।

অন্যদিকে, খুচরা বাজারে বোতলজাত ভোজ্যতেলের সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। অনেক ক্রেতাকে বাধ্য হয়ে খোলা তেল কিনতে হচ্ছে, আর সেজন্য গুনতে হচ্ছে বেশি দাম।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির আগে থেকেই পণ্য পরিবহনে ট্রাকভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর সেই চাপ আরও বেড়েছে, যার প্রভাব ধীরে ধীরে বাজারে পড়ছে।

নিত্যপণ্যের দামের এই ঊর্ধ্বগতি নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে। বাজারে কিছু পণ্যে স্বস্তি মিললেও সার্বিক ব্যয় কমছে না বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top