ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন মুলুকের প্রধান হওয়ার পর থেকে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্ব ফুটবল সংস্থার প্রধানের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রভাব ছিল দৃশ্যমান। সম্প্রতি ফিফা বিশ্বকাপসহ তাদের ইভেন্টগুলো বেসরকারিকরণের পরিকল্পনা করেছিল। এতেও অনেকে ট্রাম্পের সম্পৃক্ততার গন্ধ পাচ্ছিল।
এনিয়ে নীরবতা ভেঙেছেন আমেরিকান রাষ্ট্রপ্রধান। শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘না, আমি কখনো তার সঙ্গে (বিশ্বকাপ স্বত্ব বিক্রি নিয়ে) কথা বলিনি।’ অবশ্য কয়েক ঘণ্টা পর বিতর্কিত এই পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন ফিফা প্রধান।
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ৪০ মিলিয়ন ডলারের অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্বের ২১১টি সদস্য দেশকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ১৯ সেপ্টেম্বর এই প্রস্তাবের ব্যাপারে মতামত দেয়ার ডেডলাইন ছিল। চিঠি পাওয়া মাত্রই ইউরোপের দেশগুলো ফুসে উঠে। উয়েফা প্রস্তাব নাকচের পাশাপাশি বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দেয়। উয়েফার পর ক্যারিবিয়ান, মধ্য ও উত্তর আমেরিকান অঞ্চলের কনফেডারেশন কনকাকাফও একই সিদ্ধান্ত নেয়। ৯৬ দেশের এমন অবস্থানের পর ফিফা একটি বিবৃতি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে ফুটবল বিশ্বকাপ স্বত্ব বিক্রি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে এবং মিডিয়ার অপপ্রচারকে দায়ী করে।
ফিফার অনুদানের ওপর মূলত নির্ভরশীল এশিয়া ও আফ্রিকা। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন যখন উয়েফা এবং কনকাফের সঙ্গে একমত পোষণ করে উদ্বেগ জানায়, তখন আর কিছু করার ছিল না ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর। তাই এক বিবৃতিতে ফুটবল ঐক্যের স্লোগান দিয়ে নিজের প্রকল্প থেকে পিছু হটেছেন।
ইনফান্তিনোর এই প্রজেক্টে ফিফার সঙ্গে কনফেডারেশনের দূরত্ব হয়েছে। ফুটবল বিশ্ব দ্বিধা বিভক্ত। বিষয়টি অনুধাবন করে ইনফান্তিনো বলছেন, ‘আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে আমি সব সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আবারও একত্রিত করার চেষ্টা করব। আমাদের সবার অভিন্ন স্বার্থ। ফুটবলকে কেন্দ্র করে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে বিশ্বের সর্বত্র, বিশেষ করে যেসব দেশে সহায়তার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, সেখানে ফুটবলের উন্নয়ন অব্যাহত রাখাই হবে আমাদের লক্ষ্য।’
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।