সকল মেনু

ব্যাংক সংস্কারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই: আবুল কাসেম হায়দার

বর্তমান সরকার ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তার দৃশ্যমান অগ্রগতি এখনো স্পষ্ট নয় বলে মন্তব‌্য করেছেন ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আবুল কাসেম হায়দার।

তিনি বলেন, গত দুই বছরে শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ বাড়েনি, বরং পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘দেশের ব্যাংকিং খাতের বিপর্যয়; প্রেক্ষিত ইসলামী ব্যাংকিং সেক্টর: জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

আবুল কাসেম হায়দার বলেন, বিগত ১৫ বছরে সরকারি ও বেসরকারি— উভয় ধরনের ব্যাংক থেকেই ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। এর ফলে পুরো ব্যাংকিং খাত গভীর সংকটে পড়েছে।

তিনি বলেন, দেশের কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী বিদেশে বিপুল সম্পদের মালিক হিসেবে পরিচিতি পেলেও সেই সম্পদের বড় অংশ দেশীয় ব্যাংক খাত থেকে লুটপাটের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ঋণ খেলাপির যে অংশ সরাসরি লুটপাট বা অনিয়মের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে সাধারণ খেলাপি ঋণের হিসাবের বাইরে আলাদা শ্রেণিতে বিবেচনা করা যেতে পারে।

তার ভাষায়, এটি ব্যাংকিং খাতে একটি উদ্ভাবনী পদক্ষেপ হতে পারে, যা গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষ অতিথি ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির স্বতন্ত্র পরিচালক ও ভাইস চেয়ারপারসন ফারুক মঈনউদ্দীন আহমেদ বলেন, যেসব ঋণ লুটপাটের শিকার হয়েছে, সেগুলোকে খেলাপি ঋণের হিসাব থেকে আলাদা করা হলে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত খেলাপি ঋণের চাপ কমে আসবে। এতে ব্যাংকগুলোর নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা বাড়বে।

তিনি বলেন, ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোকে দখলের অন্যতম কারণ ছিল— এসব ব্যাংক থেকে প্রচলিত ব্যাংকের তুলনায় তুলনামূলক বেশি ঋণ বিতরণের সুযোগ। লুটপাটের স্বার্থেই এসব ব্যাংককে টার্গেট করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভারতে ১৯৯৩ সালেই খেলাপি ঋণসংক্রান্ত আইন প্রণয়ন হলেও বাংলাদেশে এ ধরনের আইন কার্যকর হয়েছে অনেক পরে, ২০২৩ সালে। তবে বিদ্যমান আইনকে পুরোপুরি বাস্তবধর্মী বলা যায় না। “আইনের মধ্যেই নানা ধরনের ফাঁকফোকর রাখা হয়েছে, যাতে লুটপাটের সুযোগ থেকে যায়,” মন্তব্য করেন তিনি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক ও কলামিস্ট ড. মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে দেশে ইসলামী ব্যাংকিং জনপ্রিয়তা লাভ করে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক প্রভাব, সুশাসনের ঘাটতি, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বিতরণ এবং করপোরেট-রাজনৈতিক দখলদারিত্ব বাড়তে থাকে।

তিনি আরও বলেন, তৃতীয় প্রজন্মের ব্যাংকগুলোতে পারিবারিক মালিকানা, স্বজনপ্রীতি ও উচ্চ খেলাপি ঋণের প্রবণতা বেড়ে যায়। আর চতুর্থ প্রজন্মে রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান, তারল্য সংকট, অর্থপাচার, আস্থাহীনতা ও উচ্চ খেলাপি ঋণের ঘটনা বৃদ্ধি পায়। এই সময়েই ইসলামী ব্যাংকগুলো পূর্ণমাত্রায় দখলদারিত্বের শিকার হয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top