যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সফর এবং ইরানে আবুধাবির গোপন হামলার খবর নতুন উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এর জেরে ভারতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আমিরাত ও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বাদানুবাদ হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনব্যাপী বৈঠক চলছে। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) প্রথমদিনে ওই বাদানুবাদ হয়। আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর করা এক মন্তব্যের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বেশ কঠোর ভাষায় কথা বলেন।
ইরানি গণমাধমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, বৈঠকে আরাঘচি বলেন- ‘ঐক্যের স্বার্থে আমার বক্তব্যে আরব আমিরাতের নাম উল্লেখ করিনি। কিন্তু এটা সত্য যে, আমিরাত আমার দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে সরাসরি জড়িত ছিল। এমনকি যখন হামলা শুরু হয়, তখন তারা নিন্দা পর্যন্ত জানায়নি।’
আরাঘচির এই মন্তব্যের আগে আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কি বলেছিলেন ইরানি গণমাধ্যম তা উল্লেখ করেনি। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরাঘচি আরো বলেন, মার্কিন ঘাঁটি কিংবা ইসরায়েলের সঙ্গে জোট- কোনোটিই আমিরাতকে নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তাই দেশটির উচিত ইরানের প্রতি তাদের নীতি পুনর্বিবেচনা করা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের একে অপরের পাশে শান্তিতে বসবাস করতে হবে। এজন্য দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক ও পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা প্রয়োজন।’
সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে জানান, যুদ্ধ চলাকালে তিনি গোপনে আমিরাত সফর করেছেন। কিন্তু নেতানিয়াহুর এমন দাবি অস্বীকার করেছে আমিরাতের কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিক্রিয়ায় আব্বাস আরাঘচি আগেই বলেছিলেন, ‘বিভেদ সৃষ্টির লক্ষ্যে যারা ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে, তাদের জবাবদিহি করতে হবে।’
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।