নানা শঙ্কা আর অনিশ্চয়তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। নাহিদ রানা পুরো সিরিজ থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন। শরিফুল ইসলাম ও লিটন দাসকে নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা। শেষ মুহূর্তে লিটন দলের সঙ্গে যোগ দিলেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শক্তিশালী স্বাগতিকদের বিপক্ষে লড়াই করা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।
তবে মাঠে নামার পর সব শঙ্কা উড়িয়ে দেন নাজমুল হোসেন শান্তর দল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
শুরুতেই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে পেসাররা
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকেই চাপে রাখেন বাংলাদেশের পেসাররা। হাসান মাহমুদের তোপে ৪৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ২৩ রান করা জ্যাক ওয়েদারল্যান্ডকে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন হাসান। এরপর ৫২ রানে ট্রাভিস হেডকে বোল্ড করে ফেরান তিনি।
মার্নাস লাবুশেনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মাত্র ১ রান করে এবাদত হোসেনের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এরপর ৭৪ রানে তাসকিন আহমেদের বলে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দেন ক্যামেরন গ্রিন।
স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি মিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও ১২৯ রানে তাদের ৫৫ রানের জুটি ভেঙে দেন এবাদত। ১৯ রান করা ক্যারিকে বোল্ড করেন তিনি। এরপর বিউ ওয়েবস্টারকে বোল্ড করে অস্ট্রেলিয়াকে আরও চাপে ফেলেন তাসকিন।
শেষ পর্যন্ত নাথান লায়ন আউট হলে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস থামে ১৭২ রানে।
ব্যাট হাতে বাংলাদেশের দাপট
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। তবে ২০ রান করে সাদমান ইসলাম ফিরলে দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসান তামিম ১০২ রানের জুটি গড়েন।
মুমিনুল মাত্র ১ রানের জন্য অর্ধশতক থেকে বঞ্চিত হন। অন্যদিকে তানজিদ হাসান তামিম তুলে নেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। ইনিংসের শেষ দিকে মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের কার্যকর ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ ৪০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায়।
ফলে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ২২৮ রান।
মিরাজের ঘূর্ণিতে বিধ্বস্ত অস্ট্রেলিয়া
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও শুরুতেই অস্ট্রেলিয়াকে বড় ধাক্কা দেন হাসান মাহমুদ। দুই ওপেনারকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন তিনি।
এরপর বল হাতে জ্বলে ওঠেন মেহেদী হাসান মিরাজ। একে একে তুলে নেন অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ ব্যাটারের উইকেট। এক প্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরি করা ক্যামেরন গ্রিন বাংলাদেশের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত হাসান মাহমুদের বোলিংয়েই সেই প্রতিরোধের অবসান ঘটে।
চতুর্থ দিনের সকালে উইকেট থেকে পাওয়া টার্ন ও বাউন্স কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়ার লেজের ব্যাটারদেরও দ্রুত সাজঘরে ফেরান মিরাজ। অ্যালেক্স ক্যারি, বিউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়নের উইকেট নিয়ে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।
৬৬ রান দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৫তমবারের মতো এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন মিরাজ।
৫৭ রানের লক্ষ্য, সহজেই জয়
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তানজিদ হাসান তামিম এবার শূন্য রানে ফিরলেও তাতে জয়ের পথে কোনো বাধা তৈরি হয়নি।
সাদমান ইসলাম ২৫ ও মুমিনুল হক ৩০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ২৩ বছর পর টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।
ব্যাটে-বলে এমন দাপুটে পারফরম্যান্সে শুধু একটি টেস্ট জয় নয়, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেই লেখা হলো নতুন এক অধ্যায়।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।