শ্রমিকরা ইয়ার্ডে কাজ করার সময় হঠাৎ বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ জনে। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও কয়েকজন।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ইয়ার্ডে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজে হাউসকিপিংয়ের কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক বলেন, এখন পর্যন্ত ছয়জনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন। অন্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিহতদের মধ্যে তিনজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন— সানি দাস, পলাশ দাস ও মোহাম্মদ হাবিব।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিকরা ইয়ার্ডে কাজ করার সময় হঠাৎ বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রথমে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, শুক্রবার ইয়ার্ড বন্ধ ছিল। সকাল ১০টার দিকে একটি স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের ট্যাংকে লিকেজ হয়। স্থানীয় কয়েকজন বহিরাগত বিষয়টি দেখতে গেলে গ্যাসে আক্রান্ত হন।
ইয়ার্ডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুজ্জামান বলেন, এখানে বিস্ফোরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। গ্যাস লিক হয়ে বিষক্রিয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন অসুস্থ হয়েছেন। অনেকে প্রথমে এটিকে বিস্ফোরণ বলে মনে করেছিলেন।
চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার (এসপি) মাহমুদা বেগমও ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিস্ফোরণের খবর সঠিক নয়।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মাহবুবুল হাসান বলেন, ১০ শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মারা গেছেন। বাকিদের সর্বশেষ অবস্থা এখনো জানা যায়নি। গ্যাস নির্গমন নাকি বিস্ফোরণ, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।