শেষ পর্যন্ত থমাস ডুলিকেই জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। নানা নাটকীয়তা, আলোচনা ও সমর্থকদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অধিনায়ককে দায়িত্ব দিতে যাচ্ছে দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
শুক্রবার (২২ মে) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান থমাস ডুলি। তবে শুরুতে বিষয়টি নিয়ে বাফুফে ছিল বেশ গোপনীয়। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কেউ মুখ খুলতে চাননি। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়লে বাফুফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ডুলির ঢাকায় আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
জাতীয় দলের কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবার ছিল বেশ আলোচিত। স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের ক্যাবরেরার বিদায়ের পর থেকেই নতুন কোচ নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা। ২৭৩ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে প্রথমে ২০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়। পরে ১১ জনের অনলাইন সাক্ষাৎকার নেয় বাফুফে।
একপর্যায়ে সাবেক ওয়েলস কোচ ক্রিস কোলম্যানের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগোয়। তবে পুরো কোচিং স্টাফ নিয়ে আসার দাবি ও উচ্চ বেতনের কারণে শেষ পর্যন্ত চুক্তি হয়নি। এ নিয়ে সমর্থকদের একাংশের অভিযোগ, কোলম্যানকে ঘিরে অযথা নাটক করেছে বাফুফে।
শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব যাচ্ছে থমাস ডুলির হাতে। রবিবার (২৪ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।
জার্মানিতে জন্ম নেওয়া এই সাবেক ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের অন্যতম পরিচিত মুখ। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে তিনি যুক্তরাষ্ট্র দলের অধিনায়ক ছিলেন। ১৯৬১ সালের ১২ মে জার্মানির বেচহোফেনে জন্ম তাঁর। বাবা ছিলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্য, মা জার্মান। বেড়ে ওঠা ও ফুটবলের শুরুটা জার্মানিতেই।
১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত জার্মানির বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন ডুলি। পরে যোগ দেন মেজর লিগ সকারে। ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলে অভিষেক হয় তাঁর। খেলেছেন ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে। জাতীয় দলের হয়ে ৮১ ম্যাচে করেছেন ৭ গোল।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ২০০২ সালে কোচিংয়ে আসেন ডুলি। সর্বশেষ গায়ানার কোচের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এ মাসেই সেই পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর থেকেই বাংলাদেশের কোচ হওয়ার আলোচনায় উঠে আসে তার নাম।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।