ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বিএনপির দুগ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েক গ্রামের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অংশ নেয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা ধরে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অন্তত ২০ থেকে ২৫টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এছাড়া একটি বাড়ির সামনে খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হলে তা বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরের ভেতরের মালামাল পুড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গট্টি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জাহিদ মাতুব্বর ও নুরু মাতুব্বরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বর্তমানে তারা দুজনই বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত হলেও পূর্বে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর আগেও একাধিকবার এই দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থক আরিফ মাতুব্বরকে ভ্যান থেকে নামিয়ে মারধর করে নুরু মাতুব্বরের সমর্থকরা। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে সন্ধ্যায় উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত টর্চলাইট জ্বালিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলতে থাকে। এ সময় নুরু মাতুব্বরের সমর্থক দেলো মাতুব্বরের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থক আবুল শেখের তিনটি গরু লুট করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা জাহিদ মাতুব্বর ও নুরু মাতুব্বরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি; পরে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুলুর রহমান খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় শান্তি বিরাজ করছে। সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।