রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক (৩৫) নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেট ১ নম্বর গেট ও শহিদ শাহ নেওয়াজ হল সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের মাথা ও বগলে গুলি লাগে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী শিক্ষার্থী মো. মেজবাহ জানান, রাত ৮টার দিকে মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত ওই যুবককে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা হামলাকারীদের ধাওয়া করলে তারা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ যুবককে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী নিহতের মাথাসহ শরীরের একাধিক স্থানে গুলির চিহ্ন রয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন।
এ ঘটনায় শাহ নেওয়াজ হল ও স্যার এ এফ রহমান হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্যার এ এফ রহমান হল সংসদের জিএস হাবিব উল্লাহ হাবিব বলেন, শাহ নেওয়াজ হল স্যার এ এফ রহমান হলের এক্সটেনশন, যেখানে চারুকলার শিক্ষার্থীরা থাকেন। হলের সামনে এমন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি না থাকায় অপরাধীদের শনাক্তে জটিলতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি শাহ নেওয়াজ হলে বহিরাগতদের আনাগোনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রায়ই ঘটে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বারবার সিসিটিভি স্থাপন ও নিরাপত্তা প্রহরী বাড়ানোর দাবি জানানো হলেও প্রশাসন তা আমলে নেয়নি।
তিনি আরও বলেন, “আজ পথচারীর বদলে যদি কোনো শিক্ষার্থী হতো, তাহলে প্রশাসন কী করতো—সেই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।”
ঘটনার পর নিউমার্কেট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।