ফরিদপুরের সালথায় সরকারি হালট দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৩ ভাইয়ের বিরুদ্ধে। হালট দখল করায় স্থানীয় কয়েকশো পরিবারের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের তুগোলদিয়া গ্রামের হিন্দু পাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রাজা শেখ, ডিটুল শেখ, রেজা শেখ স্থানীয় মৃত আওয়াল শেখের পুত্র। হালট দখল মুক্ত করে চলাচলের রাস্তা সহজ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, ভাওয়াল ইউনিয়নের তুগোলদিয়া মৌজার তুগোলদিয়া পাকা রাস্তা হইতে দিপক মালোর বাড়ি পর্যন্ত ৭০০-৮০০ মিটার হালট রয়েছে। এক সময় এই হালটে বাচ্চারা দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, হাডুডু সহ নানা রকম খেলার আয়োজন করতো। অনেক সময় এখানে গান বাজনাও হতো। এই হালট ২৬ ফুট থেকে ২৯ ফুট পর্যন্ত চওড়া ছিলো। বর্তমানে ৫/৭ ফুট চওড়া এবং পাকা রাস্তা থেকে ৩০০/৪০০ মিটার পরে একদম দখল হয় গেছে।
বর্তমানে পায়ে হাটারও কোন রাস্তা নেই। কোন রুগী, শিক্ষার্থী, শিশু-বাচ্চা সহ সকলের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। ভ্যান, সাইকেল বা অন্য কোন যানবাহন এই হিন্দু পাড়ায় যেতে পারে না। চলাচলের রাস্তা না থাকায় চরম সমস্যায় আছে সবাই। ফসল আনা নেওয়ার কোন রাস্তা নেই। রাস্তা না থাকায় হিন্দু পাড়া এলাকার কয়েকশো পরিবার একদম জিম্মি অবস্থায় আছে। পাকা রাস্তা থেকে হিন্দু পাড়া পর্যন্ত হালট দখল মুক্ত করে সকলের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশ করার না করার সর্তে স্থানীয় এক ব্যাক্তি জানান, স্থানীয়রা চাইলে ১ ঘন্টার মধ্যে হালট দখল মুক্ত করতে পারে, তবে সবাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ায় কেউ কোন কিছু করছে না। আমরা মাননীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনার দ্রুত এই হালট দখল মুক্ত করেন। না হলে সরকারি হালট নিয়ে বড় ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।
অভিযুক্ত হালট দখলকারী রাজা শেখ জানান, আমি নিজে রাস্তা তৈরী করে দিচ্ছি। এই এলাকায় অনেকেই হালট দখল করে আছে। সবাই ছেড়ে দিলে আমরাও ছেড়ে দিবো।
সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দবির উদ্দিন বলেন, সরকারি হালট সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ব্যাক্তি সার্থে তা দখল করার সুজোগ নেই। আমরা স্বরজমিনে পরিদর্শন করে তারপর ব্যবস্থা নেব।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।