পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইউনিটটি ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণ স্তরে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। পরবর্তী ধাপে চুল্লির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। এরপর ইউনিটটিকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার রুশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ বলেন, ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণ স্তরে পৌঁছানো রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুরো দলের জন্য বড় অর্জন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নভেম্বরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে প্রথম ইউনিটের সংযোগ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হবে।
স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপন
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা (এপিসিএস) স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক চালনা কার্যক্রমে অপারেটরদের সহায়তার জন্য যুক্ত করা হয়েছে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (ওআইএসএস)। রাশিয়ার বাইরে রোসাটমের নির্মিত কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
রোসাটমের অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস (আরএএসইউ) সরবরাহ করা এপিসিএস ব্যবস্থায় ৪৩টি সিস্টেমের আওতায় প্রায় ২০ হাজার যন্ত্রপাতি যুক্ত রয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে চুল্লির স্থিতিশীলতা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাত হাজারের বেশি প্যারামিটার পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এতে কেন্দ্রটির নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনায় সহায়তা মিলবে।
চালনা কার্যক্রমে সহায়তা দেবে ডিজিটাল প্রযুক্তি
কেন্দ্রটির পরিচালনব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তির সহায়তায় ওআইএসএস তৈরি করেছে আরএএসইউ। প্রথম ইউনিটে ইতিমধ্যে এ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এটি কেন্দ্রটির প্রাথমিক চালনা কার্যক্রমে অপারেটরদের সহায়তা করছে। দ্বিতীয় ইউনিটেও একই প্রযুক্তি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ওআইএসএসের একটি অংশ এআইসিএস ৩৬০টি প্রক্রিয়াসংশ্লিষ্ট সিস্টেমের তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতে পারে। জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে অপারেটরদের সহায়তার জন্য এতে ৮০টির বেশি নির্দেশিকা রয়েছে। পাশাপাশি জটিল পরিচালনাগত তথ্য সহজভাবে উপস্থাপন করে নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীদের দ্রুত ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে এ ব্যবস্থা।
আলেক্সেই লিখাচেভ বলেন, রূপপুর প্রকল্প বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতার অন্যতম বৃহৎ উদ্যোগ। আধুনিক স্বয়ংক্রিয়করণ ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রযুক্তি জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার সময় কমানো, পরিচালন ব্যয় হ্রাস এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীদের নির্ভরযোগ্য সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।
প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হলেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন করতে হবে। নভেম্বরের শেষ নাগাদ গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে প্রকল্পটি বিদ্যুৎ সরবরাহের আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।