সকল মেনু

ঠিকাদারি প্রথা বহাল রাখার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ আউটসোর্সিং কর্মচারীরা

বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, ঠিকাদারি প্রথা বহাল থাকলে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্য দীর্ঘায়িত হবে। অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত সংশোধন করে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান বা দপ্তরের মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর হাতিরপুল কাঁচাবাজার-সংলগ্ন চায়না কিচেন ভবনের তৃতীয় তলায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান আনিস ও সাধারণ সম্পাদক মো. নূরল হক নূর যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৬ অক্টোবর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সভায় ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫ এবং এর সংশোধন’ পর্যালোচনার নামে ২০২৮ সাল পর্যন্ত বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক এবং আউটসোর্সিং কর্মচারীদের স্বার্থবিরোধী।

সংগঠনের সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান আনিস বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের গত ২১ সেপ্টেম্বরের আদেশে আউটসোর্সিং সেবায় বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে সরাসরি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবা গ্রহণের কথা উল্লেখ রয়েছে। অথচ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভার কার্যবিবরণীর ৭ নম্বর ক্রমিকে ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিলের পরিপত্রের উল্লেখ করে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং কর্মচারীদের প্রতি বৈষম্য আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে সংশোধন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আদেশের ৪ নম্বর ক্রমিকের ২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর দাবি জানান তিনি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. নূরল হক নূর বলেন, কমিশনভোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কারণে বছরের পর বছর আউটসোর্সিং কর্মচারীরা শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। ঠিকাদারি প্রথা বহাল থাকলে কর্মচারীদের বেতন থেকে অর্থ কেটে নেওয়া, বোনাস থেকে বঞ্চিত করা এবং চাকরি হারানোর অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার যখন বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের কথা বলছে, তখন এ ধরনের সিদ্ধান্ত কর্মচারীদের স্বার্থের পরিপন্থী। ২০২৮ সাল পর্যন্ত নয়, ঠিকাদারি প্রথা আর এক দিনও চলতে দেওয়া উচিত নয়। অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিল করে সরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে কর্মচারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্য দূরীকরণে তিন দফা দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি। দাবিগুলো হলো—সরকারি কোষাগার থেকে বরাদ্দ করা অর্থের শতভাগ কর্মচারীদের প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে মধ্যস্বত্বভোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবসান; সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান বা অধিদপ্তরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কর্মী নিয়োগ ও পরিচালনা; এবং বয়স শিথিল করে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চাকরি স্থায়ীকরণসহ অন্যান্য সরকারি ভাতার ক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করা।

সংগঠনটির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত সংশোধন না করলে দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মচারীদের নিয়ে কঠোর ও লাগাতার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top