বজ্রপাতে চার জেলায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে মৌলভীবাজারে কৃষকসহ দুইজনের, ময়মনসিংহে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে একজন, মাঠে ফুটবল খেলার সময় এক শিক্ষার্থী এবং নেত্রকোণায় হাওর থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় একজনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন সময় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারের রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজন মারা গেছেন। এদিন দুপুরে ধান কাটার সময় ও রাবার বাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নে বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির নাম তালেব মিয়া (৪০)। তিনি কামারচাক ইউনিয়নের ভোলানগর গ্রামের আইয়ূব মিয়ার ছেলে।
কমলগঞ্জ উপজেলা রহিমপুর ইউনিয়নের মারা যাওয়া অপর ব্যক্তির নাম স্বপন মুন্ডা। তিনি দেওড়াছড়া চা বাগানের বেমারি টিলার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে প্রায় দুপুর ১টা পর্যন্ত মৌলভীবাজারে বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয়। বজ্রপাতে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের কৃষক তালেব মিয়া দুপুরে ধান কাটার সময় নিহত হয়েছেন।
এদিকে কমলগঞ্জ উপজেলার স্বপন মুন্ডা রাবার বাগানে কাজ করার সময়ে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন।
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া ও কমলগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আমির আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষক তালেব মিয়া ও শ্রমিক স্বপন মুন্ডা নিহত হয়েছেন।
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে ইদ্রিস আলী ফকির (৬৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের হাতীলেইট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইদ্রিস আলী ফকির ওই এলাকার সাবান আলী ফকিরের ছেলে।
রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মাসুদ জানান, সকালে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সময় ইদ্রিস আলী ফকির ছাতা মাথায় দিয়ে মাঠে গরু আনতে যান। হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ভোলা
ভোলার লালমোহন উপজেলায় মাঠে ফুটবল খেলার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে মো.ইয়ামিন (১১) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দাবাদ গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইয়ামিন ওই একই গ্রামের ফয়েজ দালাল বাড়ির বাসিন্দা মো. নিজামের ছেলে। এছাড়া তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন বলেও জানা গেছে।
পুলিশ ও প্রতিবেশীরা জানান, বন্ধুদের সাথে শুক্রবার বিকেলে বসতবাড়ির পাশের মাঠে ফুটবল খেলছিল ইয়ামিনসহ তার বন্ধুরা। এসময় প্রচুর বৃষ্টি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন ইয়ামিন। পরবর্তীতে বন্ধুরা ও স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই ইয়ামিন মৃত্যুবরণ করেন।
রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমোহন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম।
নেত্রকোণা
নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় বজ্রপাতে সোলেমান মিয়া (২২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। দুপুরে উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের মাদল গ্রামে বজ্রপাতে নিহতের এ ঘটনা ঘটে। মৃত সোলেমান মিয়া (২২) ওই গ্রামের কাশেম মিয়ার ছেলে।
বজ্রপাতে নিহত হওয়ার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ নূর রহমান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে আকাশের পরিস্থিতি খারাপ হলে সোলেমান মিয়া হাওর থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফিরে আসছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার আগেই হাওরে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে আক্রান্ত হন সোলেমান। স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহ নূর রহমান জানান, নিহতের পরিবারের সাথে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সরকারিভাবে সাহায্য করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুক সহযোগিতা করা যায় আমরা করবো।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।