হীন দলীয় স্বার্থে জাতীয় নেতাদের অবদান ভুলে গেলে ভবিষ্যৎ ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রবর্তন করেন, যাতে দেশের গৌরবোজ্জ্বল অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা জানানো হয়। তিনি স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সকল জাতীয় নেতার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, আমরা যদি হীন দলীয় স্বার্থে আমাদের ইতিহাসের জাতীয় নেতাদের যথাযথভাবে স্মরণ না করি, তাহলে ভবিষ্যতের ইতিহাস আমাদেরও ক্ষমা করবে না।
প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় সম্মাননা, যা প্রতি বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়। চলতি বছর ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশ গঠন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং নারীশিক্ষায় অবদানের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকেও মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে তাঁর পক্ষে নাতনি জাইমা রহমান উপস্থিত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের অবদান দেশের উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। তবে মতভেদ থাকলেও তা যেন শত্রুতায় পরিণত না হয়—এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।