সকল মেনু

পুলিশ খুঁজে না পেলেও জামিন পেলেন হত্যা মামলার দুই আসামি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কিছুদিনের মধ্যেই চট্টগ্রামে নতুন করে আলোচনায় আসে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বড় সাজ্জাদ’ ও তার বাহিনী। নির্মাণাধীন ভবনের মালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি, চাঁদা না পেয়ে গুলি এবং প্রকাশ্যে দিবালোকে হত্যার মতো ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি এবং সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ও বোরহান উদ্দিন উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছেন।

অথচ পুলিশ দাবি করছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই আসামিদের খুঁজছিল। গত ১ ফেব্রুয়ারি তারা জামিন পেলেও সেই আদেশের কপি গত ২৯ মার্চ বাকলিয়া থানায় পৌঁছানোর পর বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপকমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, পুলিশ তাঁদের খুঁজছিল, অথচ এরই মধ্যে তাঁরা জোড়া খুনের মামলায় জামিন পেয়ে গেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষকে জানানো হচ্ছে।

২০২৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। ওই রাতে বাকলিয়া এক্সেস রোডে সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হন বখতিয়ার হোসেন (৩০) ও মো. আবদুল্লাহ (৩২)। নিহতরা বড় সাজ্জাদের দল ত্যাগ করা আরেক সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলার অনুসারী ছিলেন। সে সময় একই গাড়িতে থাকা সরোয়ার ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান।

উল্লেখ্য যে, সাজ্জাদের আরেক সহযোগী আকবর আলী ওরফে ঢাকাইয়া আকবর গত বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। অন্যদিকে, সরোয়ার হোসেনকে গত ৫ নভেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারপাড়া এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

ওই সময়ে সরোয়ার চট্টগ্রাম-৮ আসনের (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগে ছিলেন। ওই হামলায় এরশাদ উল্লাহসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ জানায়, পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখতেই সাজ্জাদের নির্দেশে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছিল।

শুধু হত্যা নয়, বড় সাজ্জাদের বাহিনীর চাঁদাবাজিও চরম আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বাসায় কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে গত ১ জানুয়ারি এবং সর্বশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই দফায় গুলি ছুড়ে সন্ত্রাসীরা। উল্লেখ্য, মোস্তাফিজুর রহমানের ভাই মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, সাজ্জাদ বর্তমানে বিদেশে পলাতক থেকে চট্টগ্রামের অপরাধজগত নিয়ন্ত্রণ করছেন।

সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোবারক হোসেন ইমনের বিরুদ্ধে জোড়া খুন ও আকবর হত্যাসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে। পুলিশের কাছে থাকা বিভিন্ন ছবিতে তাকে ১৫-২০টি ভারী অস্ত্রসহ দেখা গেছে। অন্যদিকে, বোরহানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও খুনের আটটি মামলা রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার বলেন, পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারির ব্যর্থতার কারণেই এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ধরা সম্ভব হয়নি। যেহেতু তাঁরা জামিন নিয়েছেন, এখন রাষ্ট্রপক্ষের উচিত যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় এর মোকাবিলা করা।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভূঁইয়া জানিয়েছেন, জামিনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে রাষ্ট্রপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top