সকল মেনু

স্কুলে হামলার জন্য ইরানকেই দায়ী করলেন ট্রাম্প

দক্ষিণ ইরানের একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬৫ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার কথা শনিবার অস্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্টো এই হামলার জন্য তিনি ইরানকেই দায়ী করেছেন। শনিবার ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উড়োজাহাজে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই হামলা যুক্তরাষ্ট্র চালিয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই বলেন, “না, আমি যতটুকু দেখেছি তার ওপর ভিত্তি করে আমার মনে হয়, ওটা ইরানই ঘটিয়েছে।”

এ সময় প্রেসিডেন্টের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কিছুটা সতর্ক সুর বজায় রাখেন। সরকার এখনও ওই হামলার বিষয়ে “তদন্ত করছে” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কেবলমাত্র ইরানই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায়।” হেগসেথের এই মন্তব্যের পরপরই ট্রাম্প জোর দিয়ে বলে ওঠেন: “ওটা ইরানই করেছে।”

এই হামলা নিয়ে ট্রাম্পের এমন সরাসরি মন্তব্য হোয়াইট হাউসের আগের অবস্থান থেকে বেশ আলাদা। গত বুধবার এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভাট বলেছিলেন: “আমার অন্তত তা জানা নেই।” শনিবার হেগসেথের বক্তব্যের সাথে সুর মিলিয়ে তিনিও জানিয়েছিলেন যে প্রতিরক্ষা দপ্তর বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের এমন মন্তব্য সামনে এলেও, স্যাটেলাইট চিত্র, বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রকাশ করা তথ্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে, ওই হামলাটি মূলত মার্কিন বিমান হামলারই পরিণতি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ ওই হামলায় কাছাকাছি অবস্থিত ইরানের বিপ্লবী গার্ড নিয়ন্ত্রিত একটি ঘাঁটিতেও আঘাত হানা হয়েছিল।

গত সপ্তাহে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল সবচেয়ে বেশি বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং এর দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বর্তায় বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ শুক্রবার এক্সে (X) লেখেন, “ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বেআইনি হামলার কারণে ১০০ জনেরও বেশি নিরীহ স্কুল শিক্ষার্থী মারা গেছে।” তার এই মন্তব্য কংগ্রেসের পর্যাপ্ত তদারকি ছাড়াই সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে যুদ্ধবিরোধী আইনপ্রণেতাদের বৃহত্তর সমালোচনারই প্রতিফলন।

অন্যদিকে, ইরানের রাজনৈতিক নেতারা মিনাব শহরের ওই বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকেই দায়ী করেছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, এই হামলার ঘটনা “আমাদের জাতির ঐতিহাসিক স্মৃতি থেকে কখনোই মুছে যাবে না।” অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই বোমা হামলাকে একটি “অপরাধ” বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এটি কোনোভাবেই বিনা জবাবে পার পাবে না। ইরানি কূটনীতিকরাও জাতিসংঘে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এর নিন্দা ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সূত্র : পলিটিকো ডট কম

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top