সকল মেনু

নারী ও শিশু কতটা নিরাপদ?

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রেক্ষাপটে যখন বিশ্বজুড়ে নারী অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে আসে, ঠিক তখনই বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়—নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা শুধু সামাজিক অপরাধই নয়, এটি গভীর মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির কারণ। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা তাদের মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ জীবনকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করে।

সবসময় সতর্ক থাকা জরুরি

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু নির্যাতনের বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটে পরিচিত মানুষ বা আত্মীয়দের মাধ্যমে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রে নির্যাতনকারী শিশুর পরিচিত কেউ। তাই অভিভাবকদের সবসময় সতর্ক থাকতে হবে।

শিশুকে একা কোথাও পাঠানো থেকে বিরত থাকা, অপরিচিত বা অতিরিক্ত স্নেহ দেখানো ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। কেউ যদি অতিরিক্ত উপহার, চকলেট বা আদরের মাধ্যমে শিশুর কাছে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

শিশুর আচরণেও নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি বা পরিবেশে শিশুর অস্বস্তি বা ভয় প্রকাশ পেলে তাকে জোর না করে ধৈর্যের সঙ্গে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করা উচিত। স্কুলে আনা–নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও অভিভাবকদের সচেতন থাকা দরকার।

শারীরিক সীমার বিষয়ে শিক্ষা

শিশুকে ছোটবেলা থেকেই ব্যক্তিগত সীমা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন। বাবা-মা বা ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে কতটুকু দূরত্ব বজায় রাখতে হবে—এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে।

একই সঙ্গে কোন ধরনের স্পর্শ বা আচরণ অগ্রহণযোগ্য, তা সহজ ভাষায় বোঝানো গুরুত্বপূর্ণ। এতে শিশু বিপদের পরিস্থিতি চিনতে এবং তা জানাতে সাহস পায়। অভিযোগে সাহস দিন, চুপ করাবেন না। শিশু বা নারী যদি কোনো নির্যাতনের অভিযোগ করে, তাহলে তাকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা এবং মানসিক সাহস দেওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক লজ্জা বা ভয় থেকে অভিযোগ চাপা পড়ে যায়, যা অপরাধকে আরও উৎসাহিত করে। ভিকটিম ব্লেমিং না করে বরং প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তা নেওয়া উচিত। দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে কঠোর আইন রয়েছে, সঠিক প্রয়োগই পারে অপরাধ কমাতে।

আত্মরক্ষা ও সচেতনতা শেখানো

শিশুদের আত্মরক্ষার প্রাথমিক কৌশল শেখানোও গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকের সঙ্গে একটি ‘কোড ওয়ার্ড’ ঠিক করা যেতে পারে, যা বিপদের সংকেত হিসেবে কাজ করবে। শিশুকে শেখাতে হবে—অপরিচিত কারো কাছ থেকে খাবার বা উপহার না নেওয়া, কেউ অনুসরণ করলে জোরে চিৎকার করা এবং দ্রুত নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়া। বড় হলে মার্শাল আর্ট, কারাতে বা জুডোর মতো প্রশিক্ষণ তাদের আত্মবিশ্বাস ও আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

সম্মিলিত দায়িত্বেই নিরাপদ ভবিষ্যৎ

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়; এটি পুরো সমাজের দায়িত্ব। সচেতনতা বৃদ্ধি, সাহসিকতার সঙ্গে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই পারে নারী ও শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে। চুপ করে থাকা নয়—সাহসী হওয়া, সচেতন থাকা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই হতে পারে নিরাপদ ভবিষ্যতের প্রথম পদক্ষেপ।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top