সকল মেনু

১২ ফেব্রুয়ারি হবে জাতির বাঁক পরিবর্তনের দিন: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হবে জাতির বাঁক পরিবর্তনের দিন। তিনি বলেন, রাজনীতির নামে মানুষ হত্যা, নোংরামি ও অশান্তির রাজনীতি দেশবাসী আর দেখতে চায় না।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শেরপুরে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যারা মায়েদের সম্মান করে না, তারাই আজ মিছিল করছে। ইতর শ্রেণির লোক ছাড়া এমন কাজ কেউ করতে পারে না।’ এসব ঘটনায় যেসব মা কষ্ট পেয়েছেন, তাঁদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

মা-বোনদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘মা-বোনদের গায়ে হাত দিলে দেশে বিস্ফোরণ হবে। মায়ের ছেলেরা গালে হাত দিয়ে বসে থাকবে না। উই ওয়ান্ট জাস্টিস বলে যে যুবক-যুবতীরা রাস্তায় নেমেছিল, তারা কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে মাওলানা রেজাউল করিমকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড নতুন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির হামলায় নিহত জামায়াত নেতা শহিদ রেজাউল করিমের হত্যার অবিলম্বে বিচার করতে হবে।

রাষ্ট্র পরিচালনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের কোনো জেলা মেডিকেল কলেজ থেকে বাদ পড়বে না। তিনি বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশে আমরা যুবকদের পাইলট বানিয়ে, নিজেরা যাত্রী হয়ে যাবো।’ পাশাপাশি পেশাভিত্তিক মর্যাদা অনুযায়ী বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

চাঁদাবাজি ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিরোধিতা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘কোনো চাঁদাবাজ-বাটপারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক থাকবে না। দলীয়ভাবে কোনো প্রতিশোধ নেব না। আইন কাউকে হাতে তুলে নিতে দেব না। মামলা বাণিজ্যও করব না।’

এর আগে একই জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘রাজনীতির নাম যদি মানুষ খুন হয়, সেই রাজনীতি আমরা ঘৃণা করি।’ তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল চব্বিশ পরবর্তী সময়ে মাত্র ১৭ মাসেই নিজেদের দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। এমন রাজনীতি দেশবাসী চায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি বাংলাদেশ চায়, যেখানে তুচ্ছ কারণে হানাহানি হবে না, নোংরা ঘটনা ঘটবে না এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত হবে।

জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ড. ছামিউল ফারুকী, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক রিয়াদ হোসাইন, ঢাকসু জিএস এস এম ফরহাদসহ বিভিন্ন দলের নেতারা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top