সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরানে নজরদারি চালানোর সময় একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে হেলিকপ্টারের দুই ক্রু নিহত হয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার কারণ জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি এএইচ-৬আই মডেলের এবং ঘটনাস্থল সৌদি ন্যাশনাল গার্ডের আওতাধীন এলাকায় অবস্থিত।
এর আগে, শনিবার ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে দাবি করেন, তাদের যোদ্ধারা নাজরানে একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছেন। হেলিকপ্টারটি তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
হুথিদের এ দাবির প্রায় এক দিন পর সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের খবর জানানো হলো। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
হুথি মুখপাত্রের অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবির জবাবে সৌদি জোটের মুখপাত্র কয়েকটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের ছবি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হুথিরা যে হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবি করেছে, সেটি শিগগিরই যুদ্ধে যুক্ত হবে।
এদিকে গত জুলাই থেকে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। সংঘাত শুরুর পর সৌদি আরব হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। জবাবে হুথিরা রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং কয়েকটি প্রদেশ দখল করে নেয়। এর পর দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। হুথিদের সানা থেকে হটিয়ে দিতে ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে বিমান হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। এরপর পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও চলতি বছরের জুলাইয়ে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। নতুন করে সংঘাত শুরুর পর ইয়েমেন ও সৌদি আরবে শত শত মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।