দেশকে এগিয়ে নিতে যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের স্বার্থকে সবার আগে প্রাধান্য দিতে হবে। দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিলেই প্রতিটি নাগরিকের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে। আর এর মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ ও অনুদান প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে যুবকদেরই এগিয়ে আসতে হবে।’
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত তরুণদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক তরুণ পড়াশোনা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তাঁদের এ উদ্যোগ ও অবদান দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুরস্কারপ্রাপ্ত তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অলিম্পিকের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সফলদের অধিকাংশই তরুণ। একইভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনেও তরুণেরা সরাসরি মাঠে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রবীণেরা তাঁদের মেধা, বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়ে অবদান রেখেছেন।
তিনি বলেন, দেশের বড় পরিবর্তন ও অগ্রগতিতে তরুণদের শক্তি, সাহস, মেধা ও উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। এসব সম্ভাবনাকে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, সেসব প্রতিশ্রুতি এখন শুধু সরকারের নয়, দেশের মানুষেরও। এগুলো বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রতিভাবান যুবকদের সহায়তায় সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্টার্টআপ ফান্ড বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশের মেধাবী ও প্রতিভাবান তরুণদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এ জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের পরিমাণ প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মস্পৃহাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে। তাঁদের শুধু নিজেদের উন্নতির কথা ভাবলেই চলবে না, দেশের প্রতিটি মানুষের কল্যাণের কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন যুব স্বেচ্ছাসেবক ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধির হাতে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকার চেক, সম্মাননা স্মারক ও সনদ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া যুব সংগঠনগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে দেশের ৪৩২টি যুব সংগঠনকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। প্রতিটি সংগঠনকে দুই লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত তিনজন তাঁদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তরুণ ও যুবকদের জন্য সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উপস্থিত ছিলেন। দেশের ৬৪টি জেলা থেকে যুব স্বেচ্ছাসেবকেরা অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই লক্ষ্য সামনে রেখে সবাইকে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।