সকল মেনু

গণিতে ৮৭%, ইংরেজিতে ৮৫% শিক্ষকই ভিন্ন বিষয়ের

সদ্য প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে গণিত ও ইংরেজিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বল ফলের পেছনে বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষকের সংকটকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা। বাংলাদেশ শিক্ষা-তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য বলছে, মাধ্যমিক পর্যায়ে গণিত পড়ানো শিক্ষকদের বড় অংশেরই গণিতে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেই।

ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে গণিতের শিক্ষক রয়েছেন ৬৪ হাজার ১৪৭ জন। তাদের মধ্যে গণিতে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মাত্র ১৩ দশমিক ২২ শতাংশ। অর্থাৎ ৮৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ শিক্ষক অন্য বিষয়ে ডিগ্রি নিয়ে গণিত পড়াচ্ছেন।

ইংরেজির ক্ষেত্রেও প্রায় একই চিত্র। মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইংরেজির শিক্ষক রয়েছেন ৬০ হাজার ৮৫৭ জন। এর মধ্যে ইংরেজিতে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে ৯ হাজার ৩৭৬ জনের, যা মোট শিক্ষকের ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষক অন্য বিষয়ে ডিগ্রি নিয়ে ইংরেজি পড়াচ্ছেন।

শিক্ষাবিদদের মতে, বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি মাধ্যমিক শিক্ষার অন্যতম বড় সমস্যা। বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিখনভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকরা মুখস্থনির্ভর পদ্ধতিতে গণিত শেখান। ফলে প্রশ্নে সামান্য পরিবর্তন এলেই শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক অধ্যাপক বলেন, শিক্ষকদের দক্ষতার ঘাটতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী ভালোভাবে শিখতে প্রাইভেট ও কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। যাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের সামর্থ্য নেই, তারা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে।

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পাসের হার দেখা গেছে। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, ইংরেজি ও গণিতের মতো আবশ্যিক বিষয়ে দুর্বল ফলও সামগ্রিক পাসের হার কমার অন্যতম কারণ।

তবে শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকদের কেউ কেউ এবার পাসের হার কমার পেছনে আরও কয়েকটি কারণের কথা বলছেন। এর মধ্যে রয়েছে নবম ও দশম শ্রেণিতে আলাদা শিক্ষাক্রমে পাঠদান, পরীক্ষাকেন্দ্রে নজরদারি বৃদ্ধি, ডিভাইস আসক্তি এবং পরীক্ষায় নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোরতা।

এদিকে ২০০১ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর সময় জিপিএ-৫ পেয়েছিল মাত্র ৭৬ জন শিক্ষার্থী। ২০২২ সালে এ সংখ্যা বেড়ে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জনে দাঁড়ায়। এরপর থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। চলতি বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

শিক্ষকদের মতে, উচ্চশিক্ষা, চাকরির পরীক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে ইংরেজি ও গণিতের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। তাই এসব বিষয়ে বিষয়ভিত্তিক যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ এবং বিদ্যমান শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে কার্যকর প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে সরকারি ও এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সাধারণত প্রয়োজন হলেও কিছু নন-এমপিওভুক্ত নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন ও পুরোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অতীতে নিয়োগ পাওয়া কিছু শিক্ষক এখনো এইচএসসি বা সমমানের যোগ্যতা নিয়ে পাঠদান করছেন বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top