সকল মেনু

দেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব নেই, অতীতে ছিল রাজনৈতিক হাতিয়ার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব নেই, অতীতে এটি রাজনৈতিক হাতিয়ার ছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পদক প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে দেশে জঙ্গিবাদের কোনো বাস্তব পরিস্থিতি নেই; অতীতে এটি রাজনৈতিক স্বার্থে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তিনি জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে।

মন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ শব্দটিকেই আমরা এখন আর রিকগনাইজ করি না। আমাদের দেশে এ ধরনের কোনো তৎপরতা নেই। কিছু এক্সট্রিমিস্ট বা রেডিক্যাল গ্রুপ সব দেশেই থাকে—এটা অস্বাভাবিক নয়। তবে বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় জঙ্গিবাদের কোনো উপস্থিতি নেই।

তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে ‘জঙ্গিবাদ’ ইস্যুটি ব্যবহার করা হয়েছিল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নজরদারি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিট রয়েছে। বাহিনীর কোনো সদস্য দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত কিনা তা পর্যবেক্ষণে এসব ইউনিট কাজ করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সেনাবাহিনীর মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধীরে ধীরে তাদের প্রত্যাহার প্রক্রিয়া চলছে। একসঙ্গে পুরো ফোর্স প্রত্যাহার সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে অনেকাংশে কমানো হয়েছে এবং শিগগিরই আরও সীমিত করা হবে। তবে প্রয়োজনে জেলা প্রশাসন বা সরকারের নির্দেশনায় ভবিষ্যতেও তারা দায়িত্ব পালন করবে।

পুলিশ সদরদপ্তরের বিশেষ সতর্কতামূলক চিঠির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে জাতীয় দিবস বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে ঘিরে নিয়মিত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়, যা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নদীমাতৃক দেশের বাস্তবতায় উপকূলীয় এলাকার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ জলপথেও বাহিনীটির কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাওরাঞ্চলেও কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম বিস্তারের চিন্তাভাবনা চলছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার সদস্যের কোস্ট গার্ডকে পর্যায়ক্রমে ১০ হাজারে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণ সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় অঞ্চল, ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল এবং দুর্গম জলপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোস্ট গার্ডকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। প্রযুক্তির ব্যবহারে অপরাধীরা যেমন দক্ষ হচ্ছে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও আধুনিক ও প্রস্তুত থাকতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top