সাবিনা আহমেদ
গত বছর ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধে যখন পাকিস্তানের এয়ার ফোর্স ভারতের আকাশে এক ইঞ্চিও না ঢুকেই পাকিস্তানের আকাশসীমার অনেক ভেতর থেকে ভারতের চারটি অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমানকে ধ্বংস করে দেয়, তখন যুদ্ধে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক বিজয় হয়। এই জয়ের পর পাকিস্তানকে আর পেছনে তাকাতে হচ্ছে না। বিশ্বের সবাই তার সামরিক ও কূটনৈতিক শক্তিতে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। সেই থেকেই শুরু হয়েছে পাকিস্তানের বিশ্ব সুপারপাওয়ার ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে চলাফেরা, উচ্চপর্যায়ের কথাবার্তা এবং বিশ্বমঞ্চে ঘোরাফেরা।
ট্রাম্প সেই যুদ্ধ বন্ধে একদিকে যেমন ভূমিকা রাখেন, অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনীরের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। আসিম মুনীরের বিশেষ ভক্ত হয়ে ওঠেন ট্রাম্প। গতকাল আসিম মুনীর ও শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার পর ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দুটো পোস্ট করেন। মনে হচ্ছে শাহবাজ শরিফ জানেন কীভাবে ট্রাম্পকে দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করানো যায়। মনে হচ্ছে নেতানিয়াহুর কার্ডটিও ট্রাম্প দিয়ে নিয়েছেন শাহবাজ শরিফ-আসিম মুনীর।
পাকিস্তানকে বিশেষভাবে পছন্দ করে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশ, কেবল সংযুক্ত আরব আমিরাত ছাড়া। তুরস্ক, মিশর ও সৌদির সঙ্গে মিলে গড়ে তুলছে একটি জোটভিত্তিক সামরিক প্রতিরক্ষা চক্র। সৌদি আরব আর আমেরিকার ওপর নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য নির্ভর করবে না।
চীনের বিশেষ বন্ধু এবং ট্রাম্পের বিশেষ পছন্দের মানুষ—এই দুইজন। একই সঙ্গে দুই পরাশক্তিকে নিজের করে রেখেছে পাকিস্তান। মোদি এখন পেছন থেকে বসে দেখছে আর ফুঁসছে। যখন ভারতের ঝুলিতে কেবল বাংলাদেশ, পাকিস্তানের ঝুলিতে তখন একসঙ্গে চীন, আমেরিকা, সৌদি আরব, তুরস্কের মতো হেভিওয়েট দেশগুলো। মধ্যপ্রাচ্য থেকে পাকিস্তানে আসছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার।
এ দফা, পোস্ট জুলাই বিপ্লবের পর পাকিস্তান চেয়েছিল বাংলাদেশকে সঙ্গে রাখতে, বিশেষভাবে হাতও বাড়িয়ে দিয়েছিল; তুরস্কও তাই। ইউনূসের আমলে আমাদের ক্রিকেটারকে যখন ভারত থেকে তাড়িয়ে দেয়, যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট বয়কট করে, ইন সলিডারিটি পাকিস্তানও ক্রিকেট বয়কট করে। এটা ছিল একটি জেসচার—আমাদের দেখানোর জন্য যে তারা আমাদের ভাই।
কিন্তু আমরা? বিশেষ করে নির্বাচনের পর বিএনপির বাংলাদেশ? ফের গিয়ে উঠেছে ভারতের কোলে, হয়ে গেছে ভারতের চাকর। এখন কেউ যদি সহযোদ্ধা না হয়ে চাকর হতে চায়, তাকে কেউ চাকরের চেয়ে বেশি মর্যাদা কেন দেবে?
তারেক জিয়া তার প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন মনিবের দেশ ভারতে। সম্ভাব্য তারিখ ১০ মে; তিনটি দ্বিপাক্ষিক বড় চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাবেন বাংলাদেশ কেবল ভারতের। এমন কূপমণ্ডূক, নিম্নগামী মানসিকতার সরকার দিয়ে আর যাই হোক, উচ্চাকাঙ্ক্ষী কোনো উন্নয়ন হয় না—কেবল কার্ডের খেলা হয়। ভিক্ষুকের মানসিকতা নিয়ে দেশ চালালে যা হয়।
কোথায় চলে গেল পাকিস্তান, আর কোন রসাতলে যাচ্ছে বাংলাদেশ! কেবল গালভরা কথা আর পেটভরা ঘৃণা। লজ্জা লাগে না বাংলাদেশের? কোনো আত্মসম্মান নেই, উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা নেই। বিশ্বে কীভাবে চলবে তার কোনো ধারণা নেই; আছে কেবল গোলামি, একপাল ছাপড়ির হুক্কাহুয়া আর তেলচিটচিটে তেলামি।
কেবল দুঃখ লাগে বিপ্লবীদের জন্য, আর দেশের সাধারণ মানুষের জন্য—ওভারঅল দেশটার জন্য। কী হতে পারত, আর কী হচ্ছে!
লেখক: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।