দেশের অর্থনীতিতে টেকসই স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, অতীতে জবাবদিহিতার ঘাটতি ও অযৌক্তিক প্রকল্প গ্রহণের কারণে অর্থনীতিতে যে অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব এখনো বহমান।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীতে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত “প্রাক-বাজেট আলোচনা: বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের বাইরে কোনো পৃথক সত্তা নয়। জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং অর্থনৈতিক অংশীজনদের সঙ্গে কার্যকর সংযোগের মাধ্যমেই একটি সুস্থ অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে। এই সংযোগ দুর্বল হলে অর্থনীতিতে অস্থিরতা ও ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য। তবে অতীতে এমন কিছু প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যেগুলোর যথাযথ যৌক্তিকতা ছিল না এবং কাঙ্ক্ষিত ফলও অর্জিত হয়নি। পরিকল্পনা কমিশনের অধীন বাস্তবায়ন, মনিটরিং ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)-এর পর্যালোচনায়ও অনেক প্রকল্পে দুর্নীতি ও অকার্যকারিতার প্রমাণ মিলেছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কেবল সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ব্যবসা সহজীকরণ (ইজ অব ডুয়িং বিজনেস) এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানো জরুরি। এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন সেবা ডিজিটালাইজেশন ও প্রক্রিয়া সহজীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে ব্যবসায়ীরা ঘরে বসেই লাইসেন্স ও নিবন্ধন নিতে পারেন।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ও সারসহ বিভিন্ন আমদানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। উদাহরণ দিয়ে বলেন, এলএনজি, ক্রুড অয়েল ও সারের আমদানি ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, যা ব্যয় ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্থানীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ সক্ষমতা (স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ) গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জন্য করজাল সম্প্রসারণ অপরিহার্য। ব্যক্তিগত করহার বাড়ানোর পরিবর্তে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর ওপর সরকার জোর দিচ্ছে। আসন্ন বাজেট ও পরবর্তী সময়ে এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বেসরকারি খাতকে সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় জেনারেল ইকনমিকস ডিভিশনের সদস্য ড. মঞ্জুর হোসেন এবং ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমানসহ দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।