সকল মেনু

টাইব্রেকারে ভারতের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। রোমাঞ্চকর এক ফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে লাল-সবুজের যুবারা।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত এই ফাইনাল ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা না পেলেও শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেয়। প্রথমার্ধে বল দখল, আক্রমণ এবং সংগঠিত খেলায় এগিয়ে ছিল বাংলাদেশের তরুণরা। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে কয়েকবার প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করলেও কাঙ্ক্ষিত গোল আসেনি। অন্যদিকে ভারত অপেক্ষাকৃত রক্ষণাত্মক কৌশলে খেললেও সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। প্রথমার্ধ গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র কিছুটা বদলে যায়। ভারত আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় এবং বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করে। তবে বাংলাদেশের ডিফেন্স ও গোলরক্ষক মাহিন দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামাল দেন। ভারতের বল দখল ও আক্রমণ বাড়লেও তারা স্পষ্ট কোনো গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। বাংলাদেশও পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার বিপজ্জনক মুহূর্ত তৈরি করে।

দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে মাঠে নামেন রোনান সুলিভানের ভাই ডেকলান। ডান প্রান্ত দিয়ে তার গতিময় দৌড়ে বাংলাদেশের আক্রমণে নতুন গতি আসে। ম্যাচের শেষদিকে দূর থেকে দেওয়া ডেকলানের একটি নিখুঁত পাস পেয়ে রোনান শট নিলেও ভারতের গোলরক্ষক এগিয়ে এসে সেটি রুখে দেন। ফলে নির্ধারিত সময় শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায় এবং ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারে শুরু থেকেই নাটকীয়তা দেখা যায়। টসে জিতে ভারতের অধিনায়ক প্রথমে শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন প্রথম শটই দারুণভাবে সেভ করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর মোর্শেদ, চন্দন ও ফাহিম সফলভাবে গোল করে বাংলাদেশের লিড ধরে রাখেন।

বাংলাদেশের চতুর্থ শট নিতে আসেন স্যামুয়েল। ঠিক তখনই ভারতের গোলরক্ষক চোটের অজুহাতে কিছুটা সময়ক্ষেপণ করেন। চিকিৎসা শেষে আবার পোস্টে দাঁড়ালে স্যামুয়েলের নেওয়া শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। চার শট শেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-৩, ফলে ম্যাচের উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়।

শেষ শট দুটি হয়ে ওঠে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী মুহূর্ত। ভারতের হয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা খেলোয়াড় শট নিতে এসে বল পোস্টের অনেক ওপর দিয়ে মারেন। এতে বাংলাদেশের সামনে শিরোপা জয়ের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়। চ্যাম্পিয়ন হতে শেষ শটে গোল করলেই যথেষ্ট-এমন চাপের মুহূর্তে বলের সামনে দাঁড়ান যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভান। অসাধারণ স্থিরতা ও আত্মবিশ্বাস দেখিয়ে তিনি বল জালে পাঠান। সঙ্গে সঙ্গে মালেতে উপস্থিত বাংলাদেশি সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম।

এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ টানা দ্বিতীয়বার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতল। এর আগে ২০২৪ সালের আসরেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশের যুব দল। ধারাবাহিক সাফল্যে দক্ষিণ এশিয়ার বয়সভিত্তিক ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও দৃঢ় করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

মালদ্বীপের মালে স্টেডিয়ামে ছুটির দিনে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে দলকে সমর্থন দেন। একই গ্রুপে খেলায় বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরকে ভালোভাবে চিনত, ফলে ম্যাচজুড়ে ছিল কৌশলগত লড়াই। ভারতের কড়া নজরদারির মধ্যেও রোনান সুলিভান কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শট নেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনিই হয়ে ওঠেন ম্যাচের নায়ক।

রক্ষণে দৃঢ়তা, গোলরক্ষক মাহিনের গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং টাইব্রেকারে খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তাই বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়ায়। আরেকটি শিরোপা জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের যুব ফুটবল নতুন আশার আলো দেখাল সমর্থকদের।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top