সকল মেনু

সংবিধান নিয়ে ‘চোর-পুলিশ খেলা’ চলছে: শিশির মনির

সংবিধানকে ঘিরে দেশে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের ‘চোর-পুলিশ খেলা’ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নের পর থেকে প্রতিটি ক্ষমতাসীন দল নিজেদের সুবিধামতো এর ব্যাখ্যা ও পরিবর্তন করেছে, ফলে রাষ্ট্রে একটি স্থায়ী সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

শিশির মনির বলেন, বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অত্যন্ত এককেন্দ্রিকভাবে বিন্যস্ত। এ অবস্থায় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ না হলে, যে-ই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসুক না কেন, তাকে গণতান্ত্রিক নয় বরং স্বৈরতান্ত্রিক ধাঁচে দেশ চালাতে বাধ্য হতে হবে।

তিনি বলেন, এ প্রেক্ষাপটে ‘জুলাই সনদ’-এর প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর পরও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে না। বরং পুনরায় ক্ষমতা একক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

গণভোট বা জনমতের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনি সংকটের পাশাপাশি নৈতিক বৈধতার প্রশ্নও দেখা দেবে বলে সতর্ক করেন শিশির মনির।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক সরকারগুলো সংবিধানকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাখ্যা ও সংশোধন করেছে, যার ফলে রাষ্ট্রীয় নীতির ধারাবাহিকতা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংবিধান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্নমুখী অবস্থান জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিচারব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া নিয়েও সমাজে বিতর্ক রয়েছে। কখনো কখনো বিচারিক কার্যক্রমের উদ্দেশ্য, নিরপেক্ষতা ও ফলাফল নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য (চেক অ্যান্ড ব্যালান্স) নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে। নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, সরকারি প্রশাসনসহ সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সুষম ক্ষমতা বণ্টন জরুরি।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ ও অধ্যাদেশ নিয়ে চলমান বিতর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা ও স্বাধীনতা নিয়ে ভিন্নমুখী অবস্থান রাষ্ট্রীয় নীতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সবশেষে শিশির মনির বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানের অস্থিরতা জনগণের মধ্যে অনাস্থা তৈরি করছে। দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে নীতিগত ধারাবাহিকতা, প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা এবং জনসম্পৃক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top