সকল মেনু

ব্যাংকের আমানতে ছন্দপতন, হাতে নগদ অর্থের জোয়ার

নির্বাচনের আগে জানুয়ারিতে ব্যাংক খাতে আমানতের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিতে ভাটা পড়েছে। এক মাসেই আমানত কমেছে প্রায় ৬ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকের বাইরে মানুষের হাতে নগদ অর্থ বেড়েছে ৭ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে আমানতের পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। জানুয়ারিতে তা কমে দাঁড়ায় ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসে আমানত কমেছে প্রায় ৬ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা।

এর আগে ডিসেম্বরেই আমানত বেড়েছিল প্রায় ২০ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা এবং নভেম্বরে এই বৃদ্ধি ছিল আরও বেশি—প্রায় ২৯ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা।

বার্ষিক হিসাবেও প্রবৃদ্ধি কমেছে। ডিসেম্বর শেষে আমানতের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ১০ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশে। নভেম্বরে এই হার ছিল ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ।

খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাড়তি ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংক থেকে অর্থ তুলে নগদে রাখার প্রবণতা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অনেকেই সঞ্চয় ভেঙে খরচ করেছেন। এতে ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচন ঘিরে জানুয়ারিতে আমানত কমা এবং নগদ অর্থের চাহিদা বাড়া একটি সাময়িক প্রবণতা। এ সময়ে লেনদেনের ধরনে পরিবর্তন আসে এবং অনেকেই ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আবারও আমানত বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এদিকে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছরের নভেম্বরে এই পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা। ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে আরও বেড়ে হয় ২ লাখ ৮২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই মাসে নগদ অর্থ বেড়েছে প্রায় ১৩ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে শুধু জানুয়ারিতেই বেড়েছে প্রায় ৭ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা।

এর আগে গত বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ মাস ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ কমেছিল। জুলাইয়ে এই পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮৭ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা, যা আগস্টে কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা, সেপ্টেম্বরে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা, অক্টোবরে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা এবং নভেম্বরে ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকায় নেমে আসে।

তবে মৌসুমি কারণেও নগদ অর্থের ওঠানামা হয়েছে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে গত বছরের মে ও জুন মাসে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ বেড়েছিল প্রায় ১৯ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে মে মাসে বেড়েছিল ১৬ হাজার ৪১২ কোটি টাকা এবং জুনে ২ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা। একইভাবে রোজার ঈদ উপলক্ষে মার্চ মাসে নগদ অর্থ বেড়েছিল প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। যদিও এপ্রিলেই আবার তা কমে যায় প্রায় ১৯ হাজার ৬৫ কোটি টাকা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top