কয়েক দশক ধরে প্লেট বাউন্ডারি স্থিতিশীল থাকলেও যেকোনো সময় তীব্র কম্পন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফাইল ছবি
বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কয়েক দশক ধরে প্লেট বাউন্ডারি স্থিতিশীল থাকলেও যেকোনো সময় তীব্র কম্পন হতে পারে। তাই বাসাবাড়ি ও অবকাঠামো ভূমিকম্প সহনীয় করে তোলা এখন প্রধান প্রস্তুতি।
গত বছরের ২১ নভেম্বর নরসিংদীতে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশের অভ্যন্তর কেঁপে ওঠে। এতে কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটে। এরপর মাত্র তিন মাসের মাথায়, শুক্রবার, জুমার নামাজের পর সারাদেশে ৫.৪ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়।
চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ১০ দফা ভূমিকম্প হয়েছে, গড়ে প্রায় দুই দিনে একবার।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্লেট বাউন্ডারিতে শক্তি জমা হলে তা প্রকাশের চেষ্টা করে। বারবার ছোট কম্পন হলে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা থাকে।
তিনি আরও বলেন, বিল্ডিং এসেসমেন্ট করা জরুরি। ইঞ্জিনিয়ারদের এটি শেখাতে হবে এবং ভবন মালিকদেরও সচেতন করতে হবে। না হলে সেগুলো কার্যকর হবে না।
গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের কিছু বড় প্লেট বাউন্ডারি ও ফল্ট লাইনের এলাকায় প্রতি ১০০–১৫০ বছর পর ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ৮ বা তার বেশি মাত্রার কম্পন প্রায় ২৫০ থেকে ১ হাজার বছর অন্তর দেখা দিতে পারে।
রাজধানী ঢাকায় ২১ লাখ বাসাবাড়ির মধ্যে ৩০ শতাংশ ৬ তলার বেশি। এর ৯০ শতাংশই ভূমিকম্প সহনীয় নয়। সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও অবকাঠামো শত শত।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, নতুন ছোট ভূমিকম্প নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের কিছু নেই। কিন্তু অতীতে যে বড় কম্পনগুলো হয়েছে, সেগুলো নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।