প্রায় এক বছর ধরে ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম চালালেও শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়লেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আতিকুর রহমান। জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে শুভকামনা জানিয়ে তিনি এই আসন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
সোমবার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান আতিকুর রহমান। তিনি বর্তমানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ফেসবুক পোস্টে আতিকুর রহমান লেখেন, চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি সংগঠনের সিদ্ধান্তের পর থেকে তিনি ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ব্যক্তি ও পারিবারিক ব্যস্ততা এবং পেশাগত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আতিকুর রহমান বলেন, তাঁর এবং দলের কর্মীদের প্রচেষ্টায় ঢাকা-১১ আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থন তৈরি হয়েছিল, যা সাম্প্রতিক জরিপেও উঠে এসেছে।
তিনি ঢাকা-১১ আসনের (রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা ও হাতিরঝিলের আংশিক এলাকা) ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে তাঁকে আপনজন হিসেবে গ্রহণ করেছেন তাঁরা। পাশাপাশি নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত সহযাত্রী ও কর্মীদের ত্যাগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পোস্টারে রাত জাগা, দীর্ঘ সময় হাঁটা এবং নানা কষ্ট স্বীকারের জন্য তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান আতিকুর রহমান।
নারী কর্মীদের ভূমিকার কথাও আলাদাভাবে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় তাঁর কথায় বা কাজে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে সে জন্য ক্ষমা প্রার্থনাও করেন। সংগঠনের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও আস্থার কথা জানিয়ে ‘ইনসাফের বাংলাদেশ’ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
পোস্ট দেওয়ার পর আতিকুর রহমানের অনুসারী ও শুভানুধ্যায়ীরা মন্তব্যের ঘরে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান। অনেকে তাঁর ত্যাগ ও উদারতার প্রশংসা করেন। রাব্বি ইসলাম নামের একজন মন্তব্যে লেখেন, আতিকুর রহমানের ত্যাগ ও উদারতা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আরেকজন অনুসারী আপন প্রধান লেখেন, আনুগত্যের সিদ্ধান্ত তাঁর চোখে পানি এনে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন আট দলীয় জোটে সম্প্রতি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুক্ত হয়েছে। রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দুটি দলের অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা দেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। জোটগত সমঝোতার ভিত্তিতে ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।