ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে অন্য কোনো দেশে আশ্রয় নিয়েছেন কি-না, সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে বিবিসি বাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছে ডিবিপ্রধান। এছাড়া মূল সন্দেহভাজনদের সঠিক অবস্থান শনাক্তে এখনও তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয় ইনকিলাব মঞ্চ। আজ সন্ধ্যার মধ্যে এ বিষয়ে তথ্য জানাতে না পারলে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করেছেন বিক্ষুব্ধরা।
এ অবস্থায় রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে সেখানে হাদির হত্যা মামলার তদন্তের ব্যাপারে সবশেষ তথ্য জানাবেন বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
মামলার তদন্তকারী সংস্থার প্রধান হিসেবে ওই সংবাদ সম্মেলনে ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলামের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান দাবি করেছেন, গত আটদিনে তারা মামলাটির বিষয়ে ‘বেশখানিকটা অগ্রগতি’ সাধন করতে সক্ষম হয়েছেন।
বিবিসি বাংলাকে ডিবিপ্রধান বলেন, কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে এবং যে অস্ত্র ও মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে, সেটা আমরা ইতোমধ্যেই উদ্ধার করেছি। বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এখন আমরা অন্য আসামিদের ব্যাপারে জানার চেষ্টা করছি।
একইসঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন।
এর আগে, গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়।
হাদি হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ডজনখানেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রধান আসামির পরিবারের বেশ কয়েক সদস্যও রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কিন্তু মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখের অবস্থানের বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেননি গোয়েন্দারা। যদিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তারা দুজনেই ভারতে পালিয়ে গেছেন।
শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেছেন, আমরাও সেগুলো দেখেছি এবং তথ্যটি যাচাই-বাছাই করে দেখছি। কিন্তু এ ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে, গত ১৪ ডিসেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার তথ্য তারা ইমিগ্রেশন ডাটাবেজে পাননি। এছাড়া পাসপোর্ট ইতোমধ্যেই ব্লক করে দেওয়ায় বৈধভাবে তাদের পক্ষ দেশ থেকে পালানো সম্ভব নয় বলেও জানানো হয়।
কিন্তু সন্দেহভাজন হত্যাকারীরা অবৈধভাবে সীমানা পেরিয়ে ইতোমধ্যে অন্য দেশে চলে গেছে কি-না, সে ব্যাপারে সুনিশ্চিত কোনো তথ্য নেই গোয়েন্দা পুলিশের কাছে।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানো হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শনিবার প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, রাজনীতিবিদ এবং লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে জানাজার শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে শহীদ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।