সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের সালথায় জমিতে বেড়া দেওয়া ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলা চালিয়ে ৮ থেকে ১০টি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের মেহেরদিয়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলু ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আনছার মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকেলে লাভলু চেয়ারম্যানের সমর্থক কালাম মুন্সি রাস্তার কিছু অংশ আটকে জমিতে নেটজাল দিয়ে বেড়া দিচ্ছিলেন। এ সময় আনছার মাতুব্বরের সমর্থকেরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।
একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ঢাল, সড়কি, রামদা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় লাভলু চেয়ারম্যানের সমর্থক সালাউদ্দিন কাজী, আনছার মাতুব্বরের সমর্থক ভ্যানচালক নান্নু মোল্যার বসতঘরে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আনছার মাতুব্বরের সমর্থকেরাও পাল্টা হামলা ও ভাঙচুর চালান।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। পাশাপাশি ৮ থেকে ১০টি বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলু ও গট্টি ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আনছার মাতুব্বরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুলুর রহমান খান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ওই এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।