সকল মেনু

সালথায় সাফল্যের ধারাবাহিকতায় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা

আরিফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে ফরিদপুরের সালথায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা। সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও পরীক্ষার ফলাফলে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখে প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। সদ্য প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দাখিল পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।

উপজেলা সদরের পূর্ব প্রাণকেন্দ্রে ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া গ্রামে নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত মাদ্রাসাটি। পাকা সড়ক থেকে প্রায় ৫০০ মিটার ইটের রাস্তা পেরিয়ে যেতে হয় প্রতিষ্ঠানটিতে।

প্রায় দুই একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা মাদ্রাসাটিতে রয়েছে চারতলা ও তিনতলা দুটি ভবন এবং একটি টিনশেড ভবন। এসব ভবনে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ দিতে রয়েছে মানসম্মত কম্পিউটার ল্যাব ও পাঠাগার। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা উপজেলা পর্যায়ে এ পর্যন্ত প্রায় আটবার শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা নির্বাচিত হয়েছে। শুরুতে দাখিল পর্যায়ের পাঠদান দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও ২০১২ সাল থেকে আলিম পর্যায়ে পাঠদান চালু হয়। বর্তমানে ইবতেদায়ি থেকে ফাজিল পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

শুধু লেখাপড়ায় নয়, খেলাধুলাতেও প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে সুনাম। মাদ্রাসায় রয়েছে একটি খেলার মাঠ। প্রতিবছর বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করে। গত পাঁচ বছরের গড় হিসাবে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং আলিমে প্রায় ৯০ শতাংশ। প্রতিবছরই কোনো না কোনো ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি সাফল্য অর্জন করছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা সালথাসহ আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তবে পাকা সড়ক থেকে মাদ্রাসা পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার ইটের রাস্তা হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আবু ছায়েম মোল্যা প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি অবকাঠামো, খেলাধুলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নানা পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেন। তাঁর সময়ে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রমে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় আটবার উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানপ্রধান নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

অধ্যক্ষ মওলানা মো. আবু ছায়েম মোল্যা বলেন, “জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দিকনির্দেশনায় বর্তমানে মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আমরা শিক্ষার মান আরও উন্নত করার পাশাপাশি আবাসিক ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে খেলার মাঠটি আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “পাকা রাস্তা থেকে মাদ্রাসা পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার ইটের রাস্তা শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর জন্য দুর্ভোগের কারণ। রাস্তাটি পাকাকরণ করা হলে সবার জন্য সুবিধা হবে। মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করছেন। আমাদের লক্ষ্য অর্জিত সাফল্য ধরে রাখার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক ও উন্নত করা।”

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top