সকল মেনু

সালথায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে আগুন, বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতির অভিযোগ

আরিফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বৈদ্যুতিক মিটারে শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতঘর পুড়ে গেছে। আগুনে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত টিনশেড ঘরটি এবং ঘরের প্রায় সব মালামাল পুড়ে ও পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এ ঘটনায় তাঁদের ১০ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের গৌড়দিয়া বোসবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বাড়ির মালিক ডা. চন্দ্র শেখর বোস ঢাকায় থাকেন। তাঁর বাড়িতে শেফালী রানি বকশি (৭০) দুই নাতিকে নিয়ে বসবাস করতেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় তাঁরা ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই স্থানীয়রা তাঁদের নিরাপদে বের করে আনেন। ঘটনার জন্য স্থানীয়রা বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলাকে দায়ী করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাত ১০টার দিকে বৈদ্যুতিক মিটার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এরপর মিটার থেকে আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে পড়ে। বাড়ির লোকজন বালু দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করতে প্রথমে সালথা অফিসে ফোন করলে তাঁদের নকুলহাটি অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে নকুলহাটি অফিস থেকে কানাইপুর জোনাল অফিসে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। এভাবে সময়ক্ষেপণের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই টিনশেড ঘরটি এবং ঘরের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়। ভুক্তভোগীদের দাবি, শালকাঠের তৈরি ঘরটিতে প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো দুটি খাট, মূল্যবান আসবাবপত্র এবং কালীমন্দিরের বিভিন্ন সামগ্রী ছিল, যা আগুনে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের টালবাহানা ও গাফিলতির কারণেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

এ বিষয়ে উপজেলা সাব-জোনাল অফিসের এজিএম মো. মহিদুল ইসলাম মেহেদি বলেন, ‘আগুন লাগার বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। আগুন লাগার খবর পাওয়া মাত্রই বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করার কথা। কেন তা করা হয়নি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সালথা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব-অফিসার মো. আব্দুল জলিল বলেন, ‘সংবাদ পাওয়ার ৮ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাই। স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় ৫০ মিনিটের মধ্যে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনি। এ ঘটনায় প্রায় ৩ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top