সকল মেনু

ঢাবির ৬ শিক্ষককে অব্যাহতি, সাদেকা হালিমকে বরখাস্তের সুপারিশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আওয়ামীপন্থি নীল দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছয় অধ্যাপককে সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই)। সভায় অংশ নেওয়া দুই সিন্ডিকেট সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া ঢাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীও সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখাসহ বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত শেষে এ সুপারিশ করা হয়। এখন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাইব্যুনাল।

সাদেকা হালিম বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ২০২২ সালে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বও পালন করেছেন।

একই সভায় ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মুহিত, ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন, পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিক শাহরিয়ার, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আফরোজা শেলী এবং অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলামকে সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান থেকে বিরত থাকবেন। পাশাপাশি নীল দলকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক সাদেকা হালিম সাংবাদিকদের বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না। অন্যদিকে অব্যাহতি পাওয়া ছয় শিক্ষকও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. তাজমেরি এস এ ইসলাম জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তি এবং জুলাইবিরোধী অবস্থানের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অন্য অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top