দেশের অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান আগামী দুই বছরের মধ্যে বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্যাকেজিং এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩৮ থেকে ৪০টি সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোর প্রতিটিতে ৩ থেকে ১০ হাজার বিঘা পর্যন্ত জমি পড়ে আছে। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীনেও আরও অন্তত ৫০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোরও বিপুল পরিমাণ জমি ব্যবহার হচ্ছে না। এসব সম্পদ দীর্ঘদিন ধরে অলস অবস্থায় পড়ে আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, এসব সরকারি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে লোকসানে চলছে এবং সরকারকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। তাই ধাপে ধাপে এগুলো বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে কর্মসংস্থান বাড়ে এবং সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী জানান, এক হাজার বিঘার নিচে কোনো সুগার মিল নেই—এমন ১৫টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোর স্থানে বহুগুণ বেশি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা সম্ভব। তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের আয় ও সক্ষমতা মূল্যায়ন করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বড় দুটি সমস্যা হলো প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং উৎপাদন ব্যয়ের উচ্চতা। এগুলো কমাতে সরকার একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ করছে, যাতে ব্যবসা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ হয়।
অনুষ্ঠানে তিনি প্যাকেজিং শিল্পকে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং প্রযুক্তি পণ্যের গুণগত মান ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বড় ভূমিকা রাখে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও সিইও মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানান, ২০২৬ সালকে প্যাকেজিং পণ্যের বর্ষপণ্য ঘোষণা করা হয়েছে এবং রপ্তানি বাড়াতে সরকার কাজ করছে।
বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীর বলেন, দেশে এই শিল্পের বাজার বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা, যেখানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। বৈশ্বিক বাজার ধরতে পারলে এই খাত বহু গুণ বড় হতে পারে।
আয়োজকদের মতে, দেশে বর্তমানে ৬ হাজারের বেশি প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং উৎপাদন ইউনিট রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৫০টি রপ্তানিমুখী। এ খাত দেশীয় চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি পূরণ করছে।
এক্সপোতে প্যাকেজিং প্রযুক্তি, কাঁচামাল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রদর্শিত হচ্ছে। আয়োজকরা আশা করছেন, এই আয়োজন দেশের প্যাকেজিং শিল্পকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী করতে সহায়তা করবে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।