ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল উজ্জ্বল হোসাইন জানিয়েছিলেন, ১২ এর দফা (১), উপ দফা (ঠ) অনুযায়ী মাহমুদুর রহমান মান্না ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য নন। মনোনয়ন দাখিলের আগের দিন হওয়া শুনানিতে মহামান্য আপিল বিভাগ কোন আদেশ না দিয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করায় বাদী মান্না ঋণখেলাপি থেকে গেলেন। ফলে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো আইনগত সুযোগ নেই।
গত ২১ ডিসেম্বর ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদনে নথিপত্র জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ায় ইসলামী ব্যাংক আগের দেয়া স্যাংশন লেটার বাতিল করে দেয়। এতে করে মান্নার ঋণসংক্রান্ত জটিলতা আরও ঘনীভূত হয়।
এরআগে তার করা রিট আবেদন হাইকোর্টে খারিজ হয়ে যায়। গত বুধবার বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি মো. মনজুর আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মাহমুদুর রহমান মান্নার রিট আবেদনটি খারিজ করে দেন।
যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার জন্য বগুড়া-২ আসনটি ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। মান্না তার দলীয় প্রতীক কেটলি নিয়ে নির্বাচন করার কথা জানিয়েছিলেন।
শনিবার রাজধানীর তোপখানা রোডে নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন মান্না। এ সময় সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে ঋণখেলাপি না হতে চেনাজানা মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছিলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ২০০৭–০৮ সালের দিকে নিজ এলাকায় ঋণ নিয়ে একটি হিমাগার করেছিলেন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর তিনি জেলে যান। সে সময় তার ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন ইউনিয়ন পর্যায়ের এক আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি গ্রেফতারের পর ওই ব্যবসা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তার ব্যবসায়িক অংশীদারের এর এমডি হয়ে যান।
মান্না জানান, ১০-১২ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন, যা এখন ৩৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ৫ আগস্টের পর ওই এমডির নামে হত্যা ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলা হয়েছে। এ জন্য তিনি স্ত্রীসহ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। ঋণখেলাপি থেকে বাঁচতে হলে ওই এমডিকে আদালতে হাজির করতে হবে। তবে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, এমন কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে চেম্বার আদালতে গিয়েছেন জানিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছিলেন, রোববার আদালতের রায় তার অনুকূলে না এলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
তিনি বলেন, যারা তাকে জানেন, ভালোবাসেন, সেই বিশ্বাস থেকে কেউ যদি এই টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন, তাহলে তিনি নির্বাচন করতে চান।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।