বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশ এক দীর্ঘ অন্ধকার সময় পার করেছে। সে সময় সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তবে ফ্যাসিবাদের অবসান হলেও এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত হওয়া যায়নি।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, মতামত বা বক্তব্যের কারণে কারও ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফ্যাসিবাদোত্তর সময়েও এ ধরনের ঘটনা গভীর উদ্বেগের জন্ম দেয়। একজন তরুণ নেতাকে শুধুমাত্র কথার কারণে জীবন দিতে হয়েছে—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
রিজভী বলেন, শফিক রেহমানের মতো বর্ষীয়ান সাংবাদিকদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে, তা ফ্যাসিবাদী শাসনের বাস্তব চিত্র। সে সময়টা ছিল এক ঘন কালো অধ্যায়, যেখানে প্রত্যেকেই কমবেশি আক্রান্ত হয়েছে। এখনো যেসব ঘটনা সামনে আসছে, সেগুলো আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, টেলিভিশন ও রেডিওর সম্পাদক, বার্তা প্রধান এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বিএনপি।
রিজভী আরও বলেন, স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে যেমন রাষ্ট্রযন্ত্রের পাশাপাশি মিডিয়ার একটি অংশ ভূমিকা পালন করে, তেমনি ভারতের ‘গোদি মিডিয়া’র উদাহরণও রয়েছে। ফ্যাসিবাদোত্তর সময়ে কারও বক্তব্যের জন্য আক্রমণ হওয়া কাম্য নয়।
মতবিনিময় সভায় মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, অস্থির সময়ে আমরা সবাই অস্থির। প্রস্তাবিত মিডিয়া নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে গণমাধ্যম এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, তারেক রহমান এমন এক সময়ে দেশে ফিরছেন, যখন নিরাপত্তা একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর ওপরও হামলা হয়েছে। সামনে কী ঘটবে, তা কেউ জানে না। আমরা সবাই নিরাপদ থাকতে চাই, স্বাধীনভাবে লিখতে চাই। আসন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই।
মতবিনিময় সভায় নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান, দৈনিক খবরের কাগজ সম্পাদক মোস্তফা কামাল, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, আজকের পত্রিকা সম্পাদক কামরুল হাসান, আমার দেশ নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ইনকিলাব সম্পাদক আ ক ম বাহাউদ্দীন এবং বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আহমেদ পাভেল সভায় উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।