বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছেন তাওহীদ হৃদয়। ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিক হয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। পেছনে ফেলেছেন মুশফিকুর রহিমকে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে মুশফিকের অপরাজিত ২১৯ রানের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান হৃদয়। মুশফিক ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই ইনিংস খেলেছিলেন।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হৃদয়ের সংগ্রহ ২২৫ রান। তাঁর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের সমান রানও তুলে ফেলেছে বাংলাদেশ। ৮ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৩৫৬ রান।
বাংলাদেশের ইনিংসে বলতে গেলে একাই লড়াই করেছেন হৃদয়। দলের অন্য কোনো ব্যাটারই ফিফটির দেখা পাননি। একের পর এক সতীর্থের বিদায়ের পরও এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট করে গেছেন তিনি।
তৃতীয় দিনের চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় হৃদয়ের রান ছিল ১৯০। অন্য প্রান্তে ছিলেন তাসকিন আহমেদ। সাদমান ইসলাম চোটে পড়ায় কার্যত শেষ ব্যাটার হিসেবে তাসকিনকে নিয়েই ডাবল সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান হৃদয়।
শেষ পর্যন্ত ৩০৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। এই মাইলফলক স্পর্শ করার পথে ১৯টি চার ও ৭টি ছক্কা হাঁকান হৃদয়।
হৃদয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তাইজুল ইসলাম। দুজনের ১১৭ রানের জুটিতে ৩০০ রানের গণ্ডি পেরোয় বাংলাদেশ। তবে জোমেল ওয়ারিকেনের বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে ২২ রান করে ফেরেন তাইজুল। ৩০১ রানে অষ্টম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এর আগে তৃতীয় দিনের শুরুতে মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাসের বিদায়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ৩৪ রান করে ওয়ারিকেনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুশফিক। এরপর মাত্র ৮ রান করে একই বোলারের শিকার হন লিটন।
হৃদয়কে সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে ১৬ রান করে তাঁর বিদায়ে ভাঙে ৪১ রানের জুটি। এরপর হাসান মাহমুদও ১ রান করে ওয়ারিকেনের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন।
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে করা রানের চেয়ে ২৬৮ রান পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল বাংলাদেশ। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা। নতুন বলে শামার জোসেফ ও জেইডেন সিলসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ২২ রানেই ২ উইকেট হারায় দল।
সাদমান ইসলামের চোটে ওপেনিংয়ে নামা নাঈম হাসান ৫ রান করে ফেরেন। এরপর কেভিন উইকহ্যামের দুর্দান্ত ক্যাচে ১৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও ১৮ রান করে আউট হন।
তবে সব চাপ সামলে ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়েন তাওহীদ হৃদয়। তাঁর ব্যাটে ভর করেই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।