সকল মেনু

ইয়ামাল-এমবাপে-রাফিনিয়া-হালান্ড ও দলীয় যত রেকর্ড

দুই দিনে সম্পন্ন হয়েছে চলমান উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চতুর্থ রাউন্ডের ১৮ ম্যাচ। যেখানে রোমাঞ্চকর সব ম্যাচ ছাপিয়েও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে খবরের শিরোনাম হয়েছেন তারকা ফুটবলাররা। দলীয়ভাবেও হয়েছে বেশ কিছু রেকর্ড। এই রাউন্ডে ভিয়ারিয়ালকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। গ্রিসের এইকে এথেন্সের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে জয় নিশ্চিত করে সমান পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ।

স্লাভিয়া প্রাগকে ২-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছে আর্সেনাল। অন্যদিকে, অভিষেক মৌসুমে চমক দেখানো কোমো ফরাসি ক্লাব লঁসকে ৯-১ গোলে বিধ্বস্ত করে উঠে এসেছে চতুর্থ স্থানে। অ্যাস্টন ভিলাকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। তবে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে রিয়াল বেটিসও হেরেছে ২-১ ব্যবধানে।

এ ছাড়া রোমার বিপক্ষে ৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তনের জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। একই ব্যবধানে ফেনারবাচের কাছে হেরেছে লিভারপুল। ইতালিয়ান ক্লাবগুলোর মধ্যে ফেইনুর্দকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ইন্টার মিলান। তবে পোর্তোর মাঠে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে নাপোলি।

সংখ্যায় সংখ্যায় যত রেকর্ড

৪
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে অন্তত দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর চতুর্থবারের মতো ম্যাচ জিতেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এই কীর্তিতে তাদের পাশে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

১
২০১০-১১ মৌসুমের পর প্রথম দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক মৌসুমে একাধিক ম্যাচে ৮০ মিনিট বা তার পরেও এগিয়ে থাকার পর হেরেছে রোমা। ইউরোপিয়ান কাপের ইতিহাসে একই মৌসুমে একাধিক গোলে এগিয়ে থেকেও দুই ম্যাচে হারার প্রথম দলও তারা।

বিজ্ঞাপন

২৭
জানুয়ারিতে রোমার হয়ে অভিষেকের পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৭ গোল করেছেন ডনি মালেন। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ক্লাবগুলোর হয়ে এই সময়ে তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন কেবল হ্যারি কেইন (৩৯)।

১০০
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের ১০২তম ম্যাচে ক্যারিয়ারের ১০০তম গোল অবদান পূর্ণ করেছেন কিলিয়ান এমবাপে। এখন পর্যন্ত ৭৪ গোল ও ২৬ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে তার চেয়ে কম ম্যাচে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পেরেছেন কেবল আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি (১০১ ম্যাচে)।

৬
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ছয় ম্যাচে গোল করেছেন এমবাপে। এই সময়ে তার গোলসংখ্যা ছয়। প্রতিযোগিতায় এর আগে পিএসজির হয়ে ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ছয় ম্যাচে গোল করেছিলেন তিনি। অর্থাৎ নিজের সর্বোচ্চ টানা গোলের রেকর্ডে আবারও ভাগ বসিয়েছেন ফরাসি তারকা।

৯/২
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে নবম বারের মতো ৯০ মিনিটে জয়সূচক গোল করল রিয়াল মাদ্রিদ। এই মৌসুমেই এমন দুটি গোল করেছে তারা। ৯০ মিনিটে জয়সূচক গোল করার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড তাদের। এক মৌসুমে প্রতিপক্ষের মাঠে একাধিক ম্যাচে ৯০ মিনিটে জয়সূচক গোল করা দ্বিতীয় দলও রিয়াল।

১
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোল করা প্রথম মৌরিতানিয়ান ফুটবলার হয়েছেন এইকে এথেন্সের আবুবাকারি কোইতা।

১৪
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের ১৪তম গোল করেছেন লামিনে ইয়ামাল। ১৯ বছর বয়সেই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল করা কিশোর ফুটবলার এখন তিনি। এতদিন ১৯ বছর বয়স হওয়ার আগে ১৪ গোল করে এই রেকর্ডে তার সঙ্গে যৌথভাবে ছিলেন কিলিয়ান এমবাপে।

২৩
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার হয়ে রাফিনিয়ার গোলসংখ্যা এখন ২৩। ব্রাজিলিয়ান এই তারকা ছাড়িয়ে গেছেন স্বদেশি কিংবদন্তি রিভালদোকে (২২)। বার্সেলোনার হয়ে এই প্রতিযোগিতায় তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন কেবল লিওনেল মেসি (১২০) ও লুইস সুয়ারেজ (২৫)। রবার্ট লেভানডফস্কির সমান গোল করলেন রাফিনিয়া।

৭
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ক্যারিয়ারে সপ্তমবারের মতো এক ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন রাফিনিয়া। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের মধ্যে তার সমান জোড়া গোল রয়েছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রেরও। এই তালিকায় তাদের চেয়ে এগিয়ে কেবল নেইমার (৯)।

১৯
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৯ গোল করেছেন রাফিনিয়া। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ফুটবলারদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। ১৬ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন এমবাপে।

৩
বড় ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিজেদের ইতিহাসে যৌথভাবে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের স্বাদ পেয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। বার্সেলোনার কাছে ৩-০ গোলে হারার আগে ১৯৭৫ সালের সেপ্টেম্বরে রয়্যাল অ্যান্টওয়ার্পের কাছে ৪-১ এবং ১৯৯০ সালের নভেম্বরে ইন্টার মিলানের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল ইংলিশ ক্লাবটি।

০/৬
ইউরোপিয়ান কাপ বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তুরস্কের ক্লাবগুলোর মাঠে ছয়বার খেলেছে লিভারপুল। এর একটিতেও জয়ের দেখা পায়নি তারা। সবমিলিয়ে পাঁচ হার এবং শেষ চার ম্যাচেই টানা হেরেছে। ইউরোপিয়ান কাপ বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে কোনো একটি দেশের ক্লাবের বিপক্ষে টানা পাঁচটি অ্যাওয়ে ম্যাচে কখনও হারেনি লিভারপুল।

১০/৩
চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চার ম্যাচ শেষে লিভারপুল হজম করেছে ১০ গোল। এক মৌসুমে লিগ পর্ব বা গ্রুপ পর্বের প্রথম চার ম্যাচে এত গোল আগে কখনও হজম করেনি ক্লাবটি। বড় ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় টানা তিন ম্যাচে তিন বা তার বেশি গোল হজম করার ঘটনাও এই প্রথম।

পেনাল্টি বাদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোনো ম্যাচে এবারই প্রথম তিনটি সেটপিস থেকে গোল হজম করেছে লিভারপুল।

২

লিভারপুলের বিপক্ষে ফেনারবাচের হয়ে গোল করেছেন আর্চি ব্রাউন ও ম্যাসন গ্রিনউড। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে ইংলিশ কোনো দলের বিপক্ষে একই ম্যাচে দুই ইংলিশ ফুটবলারের গোল করার ঘটনা এটি দ্বিতীয়বার।

এর আগে ২০০৪ সালের এপ্রিলে আর্সেনালের বিপক্ষে চেলসির হয়ে গোল করেছিলেন ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড ও ওয়েন ব্রিজ।

১
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লিভারপুলের বিপক্ষে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোল করা প্রথম ফুটবলার ম্যাসন গ্রিনউড। এর আগে সর্বশেষ ২০১৯ সালের মে মাসে বার্সেলোনার হয়ে এমন গোল করেছিলেন লিওনেল মেসি।

১
লিভারপুলের হয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ২ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের মধ্যে গোল করেন আলেক্সান্ডার ইসাক। ম্যাচের ৬৮ মিনিট ২৫ সেকেন্ডে আসে তার গোলটি। লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১০ ম্যাচ খেলার পর এটিই তার প্রথম গোল।

১৯ বছর ১২৭ দিন
১৯ বছর ১২৭ দিন বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লিভারপুলের হয়ে গোল করা দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হয়েছেন ট্রে নিয়োনি। তার চেয়ে কম বয়সে গোল করার কীর্তি রয়েছে কেবল ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের। ২০১৭ সালে মারিবরের বিপক্ষে ১৯ বছর ১০ দিন বয়সে গোল করেছিলেন তিনি।

৯
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এক ম্যাচে ৯ গোল করা দ্বিতীয় দল কোমো। তবে প্রতিপক্ষের মাঠে প্রথম দল হিসেবে এই কীর্তি গড়েছে তারা। এর আগে ২০২৪-২৫ মৌসুমে দিনামো জাগরেবের বিপক্ষে ৯-২ গোলে জিতেছিল বায়ার্ন মিউনিখ।

৮
লঁসের বিপক্ষে আট গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছে কোমো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এটি যৌথভাবে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়। এর আগে ২০১৫ সালে মালমোকে ৮-০ গোলে হারিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ২০০৭ সালে বেসিকতাসকে একই ব্যবধানে হারিয়েছিল লিভারপুল।

৮
চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিকো পাজের গোল অবদান এখন পর্যন্ত ৮টি। তিন গোলের পাশাপাশি পাঁচটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। সাতটি করে গোল অবদান নিয়ে এতদিন তার সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন তাসোস দুভিকাস, হ্যারি কেইন ও লামিনে ইয়ামাল।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হ্যাটট্রিক করা তৃতীয় গ্রিক ফুটবলার হয়েছেন তাসোস দুভিকাস। ইতালিয়ান ক্লাবের হয়ে প্রতিপক্ষের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হ্যাটট্রিক করা পঞ্চম ফুটবলার দুভিকাস।

৪
চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোমোর চারটি ম্যাচেই গোল করেছেন দুভিকাস। প্রতিযোগিতায় কোনো দলের প্রথম চার ম্যাচেই গোল করা দ্বিতীয় ফুটবলার তিনি। এর আগে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে জুভেন্তাসের হয়ে নিজেদের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই গোল করেছিলেন আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো।

১
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা চার ম্যাচে অন্তত চারটি করে গোল করেছে পিএসজি। এ ছাড়া তারাই প্রথম দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোনো মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচে ২০ গোল করল।

এ ছাড়া প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে চার গোল করার কীর্তিও এখন তাদের। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ১৬ মিনিট ২ সেকেন্ডের মধ্যেই চার গোল করে পিএসজি। এর আগে ২০১১ সালে দিনামো জাগরেবের বিপক্ষে ২০ মিনিটে চার গোল করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ।

৩৫
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আরবি লাইপজিগ ও ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যে সাত ম্যাচে মোট ৩৫ গোল হয়েছে। এর মধ্যে সিটির গোল ২৪টি, লাইপজিগের ১১টি। প্রতিযোগিতায় অন্তত পাঁচবার মুখোমুখি হওয়া দলগুলোর মধ্যে এই লড়াইয়ে ম্যাচপ্রতি গোলের গড় সর্বোচ্চ– ৫টি।

১৩/৭
আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে ক্যারিয়ারে ৯ ম্যাচে ১৩ গোল করেছেন আর্লিং হালান্ড। নির্দিষ্ট দলের বিপক্ষে এটি তার সর্বোচ্চ গোলসংখ্যা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লাইপজিগের বিপক্ষে তার গোল ৭টি, যা এই প্রতিযোগিতায় কোনো দলের বিপক্ষে তার সর্বোচ্চ।

২৩
আর্সেনালের কাছে হারের পর ইউরোপিয়ান কাপের ইতিহাসে টানা জয়হীন থাকার দীর্ঘতম রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে স্লাভিয়া প্রাগ। টানা ২৩ ম্যাচে জয়হীন তারা। এই সময়ে আটটি ড্র ও ১৫টি হার দেখেছে দলটি। এর আগে এইকে এথেন্স (১৯৮৯-২০০৬) এবং এফসিএসবিও (২০০৬-২০১৩) টানা ২৩ ম্যাচ জয়হীন ছিল।

১৬
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ভিক্টর গিয়োকেরেসের গোল অবদান এখন ১৬টি। ১২ গোলের পাশাপাশি চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন সুইডিশ এই ফরোয়ার্ড। সুইডিশ ফুটবলারদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি গোল অবদান রয়েছে কেবল জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের (৭২)। দ্বিতীয় স্থানে যৌথভাবে রয়েছেন ইয়োকেরেস, এমিল ফর্সবার্গ ও ফ্রেডি লিউংবার্গ।

৪
বয়স ১৯ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পাঁচ গোল করার কীর্তি গড়া চতুর্থ ফুটবলার হয়েছেন লেনার্ট কার্ল। তার আগে এই তালিকায় রয়েছেন লামিনে ইয়ামাল (১১ গোল), কিলিয়ান এমবাপে (১০) ও রাউল গঞ্জালেস (৬)।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top