সকল মেনু

ছয় মাস ধরে বেতন বন্ধ, ক্ষোভে মাদরাসা সুপারকে অবরুদ্ধ করলেন শিক্ষকরা

সুপারিনটেনডেন্টের (সুপার) গাফিলতিতে ছয় মাস ধরে বেতন বন্ধ রয়েছে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদরাসার ১৮ শিক্ষক-কর্মচারীর। বকেয়া বেতনের দাবিতে মাদরাসার সুপার মো. সাইদুর রহমান ও অফিস সহকারী শফিয়ার রহমানকে কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন অন্য শিক্ষকরা।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে মাদরাসার কার্যালয়ে তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বিকেল ৩টা পর্যন্ত তাঁরা কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ ছিলেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, সুপারের কারণে সৃষ্ট প্রশাসনিক জটিলতায় গত ছয় মাস ধরে মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না। বেতন পরিশোধের বিষয়ে সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত সুপারকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদরাসাটি ১৯৮৫ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাদরাসাটিতে ২১৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ১৮।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে মাদরাসার সুপার সাইদুর রহমান তাঁর চাচাতো ভাই ও অফিস সহকারী শফিয়ার রহমানকে শিক্ষক হিসেবে পদায়ন দেখান। এ নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়। পরে অফিস সহকারী পদে বহাল থাকার দাবিতে শফিয়ার রহমান আদালতে মামলা করেন। প্রায় এক বছর আগে করা মামলাটি এখনো চলমান।

পদবি নিয়ে এই জটিলতার নিষ্পত্তি না হওয়ায় গত ছয় মাস ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রয়েছে।

সহকারী শিক্ষক ইমরুল কায়েস রাসেল বলেন, ‘আমরা শিক্ষক। মানুষ আমাদের কাছে আরও ভদ্র আচরণ প্রত্যাশা করে। কিন্তু পেটের দায়ে সুপার স্যার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ করতে হয়েছে। ছয় মাস ধরে বেতন বন্ধ। আমরা বাজারে যেতে পারি না। আমরা সুপার স্যারের অধীনে চাকরি করি। তিনি কীভাবে সমস্যার সমাধান করবেন, তা আমরা জানি না। তবে বেতনের বিষয়ে সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আজ তাঁকে ছাড়ব না।’

এদিকে মাদরাসার সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন অন্য সহকারী শিক্ষকেরা। তাঁরা বিভিন্ন সময় ‘ছয় মাস ধরে বেতন নাই, বেতন চাই, বেতন চাই’ বলে স্লোগান দেন।

সহকারী শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, ‘সুপার স্যারের কারণে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। অফিস সহকারীকে ইবতেদায়ি শিক্ষক হিসেবে পদায়ন করায় মাদরাসার ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারীর কেউ বেতন পাচ্ছেন না। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই। সুপারের কারণে আমরা কেন বঞ্চিত হব?’

অভিযোগের বিষয়ে সুপার মো. সাইদুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, অফিস সহকারী শফিয়ার রহমানের পদবি পরিবর্তন করে তাঁকে ইবতেদায়ি শিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই ভুল সংশোধনের জন্য এনটিআরসিএতে কাজ চলছে। পদবি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বেতন নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি তা নিতে রাজি না হওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।

সুপার আরও বলেন, সোমবার সকালে দায়িত্ব পালন করতে মাদরাসায় এলে সকাল ১০টা থেকে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

এর আগে গত ২৩ জুলাই এনটিআরসিএর নিবন্ধন সনদ জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সুপার সাইদুর রহমান। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদরাসার সুপারকে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সুপারকে অবমুক্ত করার জন্য মাদরাসার সভাপতিকে বলা হয়েছে।

মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম জানান, সুপার ও অফিস সহকারী অবরুদ্ধ হওয়ার খবর তিনি পেয়েছেন। সুপার ও অফিস সহকারীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলছে। তাঁরা একে অপরের আত্মীয়। তাঁদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। অবরোধকারী শিক্ষকদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। সবাইকে উপজেলায় ডাকা হয়েছে। ইউএনওর সামনে বসে সমস্যার সমাধান করা হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top