সকল মেনু

আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আপিলের বিলম্ব মার্জনাযোগ্য: হাইকোর্ট

সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও ফাইল চালাচালির কারণে মামলা দায়েরের আপিলে বিলম্ব হলে, তা যথেষ্ট কারণ হিসেবে বিবেচনা করে মার্জনা করা যেতে পারে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি মামলায় ১৬৮ দিনের বিলম্ব মার্জনা করে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০২ সালে শফিকুল ইসলাম লালমনিরহাটের জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ আদালতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও অন্যদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ২০০৩ সালের ২৪ নভেম্বর মামলাটিতে বাদীর পক্ষে রায় ও ডিক্রি দেওয়া হয়।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালে জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি আপিল করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে আপিল দায়েরে ১৬৮ দিন বিলম্ব হওয়ায় তামাদি আইনের ৫ ধারায় বিলম্ব মার্জনার আবেদন করে সংস্থাটি।

২০০৪ সালের ১ আগস্ট পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা না থাকার কারণ দেখিয়ে বিলম্ব মার্জনার আবেদনটি খারিজ করে দেন নিম্ন আদালত। ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন আবেদন করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

পরে বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের একক বেঞ্চ নিম্ন আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট আইনি নীতিমালা পর্যালোচনা করে রায় দেন।

রায়ে আপিল বিভাগের বিভিন্ন নজির উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মতো একটি সংবিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠানকে আইনি পরামর্শ নেওয়া, ফাইল অনুমোদন এবং ব্যয়ের ব্যবস্থা করাসহ একাধিক প্রশাসনিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়। এসব আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কারণে সৃষ্ট বিলম্বকে ইচ্ছাকৃত বলা যায় না। এ ধরনের বিলম্ব তামাদি আইনের অধীনে ‘যথেষ্ট কারণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়ে মার্জনাযোগ্য হতে পারে।

হাইকোর্ট বিভাগ জেলা জজ আদালতের ২০০৪ সালের ১ আগস্টের আদেশ বাতিল করে বাংলাদেশ রেলওয়ের আপিল দায়েরে ১৬৮ দিনের বিলম্ব মার্জনা করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নোটিশ দিয়ে ২০০৪ সালের আপিলটি আইন অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তির জন্য নিম্ন আপিল আদালতকে নির্দেশ দেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top