সকল মেনু

‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’

‘আমার বাবা ভালো বাবা, আমার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে।’—কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তুবা বিনতে অরণি।

বাবার সঙ্গে কোনো অন্যায় না হোক, তিনি সুস্থ ও ভালোভাবে ফিরে আসুন—এমন আকুতি ছোট্ট তুবার। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাবাকে তিন মাসের জন্য বিদায় জানায় সে।

এর আগে গত শনিবার মধ্যরাতে চুরির অপবাদ দিয়ে তুবার বাবা অনিক সরদারকে বেঁধে মারধরের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। আহত অবস্থায় তাকে বেঁধে রেখে চা ও রুটি খাওয়ানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

তুবা জানায়, ভোররাতে এক ব্যক্তি বাড়িতে এসে তার বাবাকে আটকে মারধর করা হচ্ছে বলে খবর দেন। খবর পেয়ে সে, তার মা ও ছোট বোন ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।

তুবার ভাষ্য, সেখানে গিয়ে সে দেখতে পায় তার বাবাকে বেঁধে রেখে কয়েকজন মারধর করছেন। তারা লাঠি দিয়ে আঘাত ও লাথি মারছিলেন। তখন বাবাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাদের কাছে অনুরোধ করে সে।

তুবা বলে, ‘আমি গিয়ে দেখি বাবাকে বেঁধে রেখে মারছে সবাই। লাঠি দিয়ে বাড়ি দিচ্ছে, লাথি দিচ্ছে। তখন আমি তাদের বলেছি, আমার বাবাকে আর মেরো না। আমার বাবাকে ছেড়ে দাও। বাবাকে বেঁধে রেখো না। দেখি বাবার খুব ক্ষুধা লাগছে। তখন একজন চা আর রুটি দিলে আমি বাবাকে খাওয়াই।’

পরে অনেক অনুরোধের পর তার বাবাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানায় তুবা। বাবাকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর সে খুব খুশি হয়েছে বলেও জানায়।

তুবার আকুতি, তার বাবাকে একটি কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হলে পরিবারের সবাই ভালোভাবে থাকতে পারবে।

এদিকে অনিক সরদারের অভিযোগ, জমি ও পূর্বশত্রুতার বিরোধের জেরে তাকে চুরির অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। তার দাবি, তার কাছ থেকে চুরির কোনো মালামাল উদ্ধার করা হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণও দেখাতে পারেনি অভিযুক্তরা।

অনিক বলেন, ‘আমার কাছ থেকে চুরির কোনো মালামাল উদ্ধার হয়নি। কোনো প্রমাণও দেখাতে পারেনি।’

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অনিক অসুস্থ থাকায় তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সোমবার তাকে তিন মাসের জন্য একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এ সময়ে তার পরিবারের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় প্রশাসন পাশে থাকবে।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, ‘অনিকের ঘটনায় মানুষ কোনো কিছুই ভাবেনি, শুধু বাবার প্রতি মেয়ের ভালোবাসার বিষয়টি দেখেছে।’

ছোট্ট তুবার কান্না ও বাবাকে বাঁচানোর আকুতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। একই সঙ্গে চুরির অভিযোগে কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে নির্যাতন না করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top