ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলাকারী মনিরুল হাওলাদারের মাদারীপুর সদর উপজেলার খালাসীকান্দি গ্রামের বাড়ি থেকে তার পরিবার পালিয়েছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর হামলার ভয়ে পরিবারটি আত্মগোপনে চলে গেছে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করেছেন।
মনিরুল নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ধুরাইল ইউনিয়নের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে আসিবুর রহমান খানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে ২৮ লাখ টাকা খরচ করে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাড়ি জমান মনিরুল। দেশে ও বিদেশে তার এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এবং স্বজনরা। বিদেশের মাটিতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় তারা মনিরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দু’পাশে দুটি টিনশেডের ঘর। একটি চার চালা, অপরটি দোচালা। মনিরুলের টিনশেড বাড়ির ঘরগুলোতে বাইরে থেকে তালা ঝুলছে এবং পুরো বাড়ি জনশূন্য। আশপাশের কেউই বাড়িতে আসছে না। হাক-ডাক দেয়ার পরে পাশের বাড়ির প্রতিবেশী চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম আসলেন। তিনি বলেন, সকালে মনিরুলের বাড়ি থেকে সবাই পালিয়েছে। বিদেশে কোনো ঘটনার কারণে সকালে লোকজন বাড়িতে ঢোকার আগেই সবাই আত্মগোপনে চলে গেছে। কথার এক পর্যায়ে মুখে গামছা দিয়ে এগিয়ে আসে মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের দেখে উগরে দিলেন তীব্র ক্ষোভ।
ওবায়দুল হাওলাদারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেড় বছর আগে ২৮ লাখ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাড়ি জমায় মনিরুল হাওলাদার। তিনি সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালাসীকান্দি এলাকার মৃত শাজাহান হাওলাদারের কনিষ্ঠ পুত্র। এলাকায় থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আসিবুর রহমান খানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। বর্তমানে গ্রামের বাড়িতে তার মা আলেয়া বেগম, তার বড় ভাইকে নিয়ে বসবাস করেন। এ ছাড়া তার তিন বোনের বিয়ে হয়েছে।
শাজাহান খানের সঙ্গে মনিরুল।দোচালা জরাজীর্ণ বাড়িতে মা ও ভাইয়ের সংসার। এখনও ঋণের টাকা শোধ করতে পারেনি মনিরুল। ইতালির ভেনিস শহরে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা জানাজানি হলে বৃদ্ধা মা ও তার বড় ভাইয়ের পরিবারের সবাই বাড়ি থেকে পালিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী মনিরুলের বিতর্কিত ঘটনার বিচার দাবি করেন। সেই সঙ্গে আগামীতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্যে মনিরুলের ক্ষমা চাওয়ার দাবিও করেন। অন্যদিকে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যে পুলিশ সর্তক অবস্থানে রয়েছে।
ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, ‘এখনও বাড়ি-ঘর করতে পারে নাই। ঋণের বোঝা মাথার ওপরে। টাকা-পয়সা কামানো বাদ দিয়ে দল করা শুরু করেছে। আমি সৎভাই, এক পয়সাও আমাকে দেয় না। বিদেশে বসে এ দেশের মান-সম্মান সব শেষ করে দিয়েছে। ওর বিচার করুক, আমরা ওর সঙ্গে নেই। এমন লোক থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। আমি ওদের সঙ্গে নাই। ওর মা-বোন-ভাই সবাই পালিয়েছে।’
চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে থাকতেও ছাত্রলীগ করতো। শাজাহান খান আর আসিব খানের লোক ছিল। দল করতো, এখনও বিদেশে গিয়ে দল করে। বিয়ে সাদিও করতে পারে নাই। এমন লোকের কারণে আমাদের ধুরাইলের ইজ্জত শেষ হইছে।’
এ ব্যাপারে ধুরাইল ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, মনিরুল দেশে থাকতে ছাত্রলীগ করছে। এখনও বিদেশে বসে ছাত্রলীগ করে বলে জেনেছি। কিন্তু এভাবে ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি। সকালে ইনকিলাব মঞ্চের আনাস কিছু লোকজন নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তাদের বুঝিয়ে দিয়েছি। তারা সব শুনে বাড়ি-ঘরে হামলা করেনি। তারা মনিরুলের বিচার দাবি করে চলে গেছে। আমি বাড়িতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করেছি। সদর থানা পুলিশও বিষয়টি নজরে রেখেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, ঘটনাটি জানার পরেই মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ যেন বাড়ি-ঘরে হামলা করতে না পারে সে ব্যাপারে পুলিশ সর্তক রয়েছে। ওখানের ইউপি চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে, তিনি সব ধরণের সহযোগিতাও করছেন।’
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।