সকল মেনু

প্রশিক্ষণ বিমান বন্ধ করে আলাদা রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নেই: প্রধানমন্ত্রী

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান উড্ডয়ন বন্ধ করে স্বতন্ত্র রানওয়ে বা বিমানঘাঁটি নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

সংরক্ষিত নারী আসন-৪১-এর সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা ও আকাশ প্রতিরক্ষায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমান বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রস্তুত রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, পৃথক বিমানঘাঁটি ও রানওয়ে নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। দেশের সীমিত ভূমি এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শুধু প্রশিক্ষণের জন্য পৃথক রানওয়ে নির্মাণের পরিবর্তে বিদ্যমান সুবিধার যথাযথ ব্যবহারকেই সরকার বেশি বাস্তবসম্মত মনে করছে।

চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়লেও আবহাওয়া পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে—এমন বক্তব্য সঠিক নয়।

তিনি জানান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ৫ থেকে ১০ দিন আগের পূর্বাভাসসহ ঘূর্ণিঝড়, ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাতসহ বিভিন্ন দুর্যোগের সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে। পূর্বাভাস আরও আধুনিক ও নির্ভুল করতে পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, উন্নত ডেটা বিশ্লেষণ এবং দক্ষ জনবল তৈরির কাজ অব্যাহত রয়েছে।

এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী আসন-২-এর সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা ও সংরক্ষিত নারী আসন-১০-এর সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির পৃথক প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

শিরীন সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশীয়ভাবে ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সমুদ্র এলাকায় নজরদারি বাড়াতেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেসামরিক কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণের জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনকালীন দেশের সার্বিক নিরাপত্তায় এবং ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ নির্দেশিকার আওতায় দুর্যোগ ও সংকটকালে বেসামরিক প্রশাসনকে সশস্ত্র বাহিনী সহায়তা করে থাকে।

এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ১২৯ ধারা অনুযায়ী বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীকে আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top