আরিফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের সালথায় ১৯৬৯ সালে কুমার নদীর পাড়ে গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে উঠা বড়খাড়দিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। পরিক্ষার ফলাফল, খেলাধুলা থেকে সাহিত্য সংস্কৃতি সবখানেই সাফল্যের ছাপ রেখেছে এই বিদ্যালয় টি। শিক্ষার্থীদের নিরলস প্রচেষ্টা ও শিক্ষকদের কঠোর গাইড লাইন এবং অভিভাবকদের আন্তরিকতায় চলমান এসসির ফলাফলেও বড়খারদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় উপজেলা পর্যায়ে সেরা হয়েছে। এই বিদ্যালয় থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাছাড়া পাশের ছিলো ৭২ ভাগ যা উপজেলা পর্যায়ে ২য়।
গৃহিনী মা ও দাদার শ্রম ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় এবারের এসএসসি পরিক্ষার ফলাফলে উপজেলা পর্যায়ে ১ম হয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে সৈয়দা সামিয়া ইসলাম। তার এই সাফল্যে পরিবার, স্কুল ও গ্রামবাসী সহ সকলেই খুশি। মালোশিয়া প্রবাসী সৈয়দ তাজুল ইসলামের একমাত্র মেয়ে সামিয়া ইসলাম ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায়। কষ্ট হলেও সামিয়ার পড়ালেখার জন্য পরিবারের সদস্যরা সবই করতে চায়।
প্রতিযোগিতা করে লেখাপড়া করে দুই বোনই পেয়েছে জিপিএ ৫। এর মধ্যে সামিয়া খানম মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে পুরো উপজেলায় হইচই ফেলে দেয়। সামিয়ার আরেক বোন সাদিয়া খানমও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে। কৃষক আলিমুজ্জামান মিয়ার দুই মেয়ে সামিয়া খানম প্রশাসন ক্যাডার হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বোন সাদিয়া খানম হতে চায় শিক্ষক। তাদের একমাত্রা ভাই জামিল হাসান (আরমান) হাফেজিয়া শুনানিতে ঢাকা বোর্ডে স্টান্ড করেছে।
এছাড়াও সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে কৃষক বাবা সৈয়দ মোবারক ও গৃহীনি মায়ের ছেলে সৈয়দ মেজবা এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পাওয়া মেজবা ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায়। জিপিএ ৫ পাওয়া আরেক শিক্ষার্থী সামিয়া খানমের বাবা মুফতি আবু জাফর পেশায় ইমাম। গৃহিণী মায়ের মেয়ে সামিয়া শিক্ষায় ক্যাডার হতে চায়।
বড়খাড়দিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যাবসায়, অভিভাবক ও স্থানীয়দের আন্তরিকতায় আমরা উপজেলা পর্যায়ে ভালো ফলাফল অর্জন করেছি। আমাদের শিক্ষকদের মাঝে কোন গ্রুপিং নাই। বিদ্যালয়ের সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী, তিনি নিয়মিত খোঁজ খবর নেন। গড় হিসেব করলে উপজেলা পর্যায়ে আমি প্রথমে থাকবো। তাছাড়া সাহিত্য সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় আমরা বরাবরই এগিয়ে আছি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিনয় কুমার চাকী বলেন, বরাবরের মতোই এবারও বড়খাড়দিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সবাই আন্তরিক। উপজেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে। তাদের এই সাফল্যে আমরা খুশি, আশা করছি তাদের ফলাফল ভবিষ্যতে আরও ভালো হবে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।