সকল মেনু

পুলিশের কেউ ট্রাফিক আইন অমান্য করলে ব্যবস্থা : ডিএমপি কমিশনার

পুলিশ সদস্যের কেউ যদি ট্রাফিক আইন অমান্য করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, ট্রাফিকের আইন আসলে সবার জন্যই সমান। সেটা সরকারি হোক, বেসরকারি হোক। যেমন আমাদের যারা পুলিশ সদস্য আমরা কিন্তু ক্লিয়ার মেসেজ দিয়েছি। আমাদের পুলিশ সদস্যের কেউ যদি ট্রাফিক আইন অমান্য করে, আইন অনুযায়ী আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেল সোয়া ৪টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

চলতি বছরের গত মে মাসে ডিএমপি কর্তৃক জন নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গৃহীত কার্যক্রম, অর্জিত সাফল্য, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহা কেন্দ্রীক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়ন সম্পর্কে জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ডিএমপি।

সরকারি অফিসাররা, সরকারি গাড়িগুলো ট্রাফিক আইন মানতে চান না। ঢাকা শহরের প্রায় প্রত্যেকটা সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িগুলোত হুটার লাগানো। যেখানে হর্ন বাজানোর দরকার নেই সেখানেও হর্ন বাজানো হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে ট্রাফিক আইন মেনে যাতায়াত করেন। সেখানে অন্যদের ব্যাপারে তো অবশ্যই আমাদের সরকারি হোক বেসরকারি হোক আমাদের অবস্থান কিন্তু স্পষ্ট যে ট্রাফিক আইন যিনি লঙ্ঘন করবেন তিনি ট্রাফিক আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যেখানে হর্ন বাজানো নিষেধ বা হুটার তো আসলে আপনার সাধারণ যানবাহন যেগুলো আছে ইমার্জেন্সি যানবাহন ছাড়া কেউ হুটার বাজাতে পারবেন না। সেটা কিন্তু ট্রাফিক আইন এবং বিধিতে স্পষ্ট বলা আছে। এই বিষয়ে আমাদের অভিযান চলমান আছে। আমরা আমাদের ট্রাফিকের ফিল্ডে যারা কাজ করেন, তাদেরকে আমরা বলেছি তাদেরকে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি যারা এর ব্যত্যয় করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ট্রাফিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

সরকারি অনেক দপ্তরের যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নেই। ইঞ্জিন নাম্বারে চলছে। পুলিশের অনেক যানবাহনও ইঞ্জিন নাম্বারে চলছে। এ ধরণের যানবাহন আইন অমান্য করলে এআই কীভাবে মামলা দেবে? জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, সরকারি এবং বেসরকারি যানবাহন হোক ট্রাফিক আইন যদি কেউ লঙ্ঘন করেন অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, হচ্ছেও।

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক আভিধানিক কার্যক্রমের ফিরিস্তি তুলে ধরে কমিশনার বলেন, মে মাসে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে সড়ক পরিবহন আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ৩৮,২৮৪ টি মামলা করেছে। এর মধ্যে ৬৭২ টি মামলা হয়েছে এআই ভিত্তিক এনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে। মোট ৮ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০১ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ডিএমপির বিজ্ঞ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা আদালত কর্তৃক মে মাসে সড়ক পরিবহন আইন সংক্রান্তে ৩৩৭টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। যার মধ্যে একজনকে কারাদণ্ডসহ অন্যদের ক্ষেত্রে সর্বমোট ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া মে মাসে বিজ্ঞ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ৫,২০৯টি ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। যার মধ্যে ৫,৯৫৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদি কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং সর্বমোট ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি আমরা নতুন ইন্ট্রোডিউস করেছি। এখানে অটোমেটিক্যালি আমাদের যে প্রোগ্রামটা করে দেওয়া হয়। এই প্রোগ্রামের বাইরে যে গাড়িগুলো যাবে বা ক্রস করবে বাম লেনকে ব্লক করবে অথবা আবার যে লেন সেটাকে ক্রস করবে আইন অমান্য করবে সেই গাড়িগুলো অটোমেটিক্যালি আমাদের সিস্টেমে চলে আসে। আমরা যাচাই-বাছাই করে আমরা আরও নিশ্চিত হই যে এই অপরাধটি সে করেছে। এটা আমরা শতভাগ নিশ্চিত হবার পরে আমরা তখন তার এই মামলাটি করি।

ব্যাটারি চালিত রিকশা প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা বিষয়ে অভিযান চলমান আছে। আমরা প্রতিদিনই ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাপারে অভিযান করছি। আর এই রিকশাগুলো যেহেতু এটা মোটরযান নয় এজন্য এর বিরুদ্ধে তো আসলে মামলা করার সুযোগ নেই। আমরা ডাম্পিং করছি। তাদের রিকশা বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। ঢাকা শহরের সড়কে যে সমস্ত রিক্সা চলার কথা নয় মেইন রোডগুলোতে, সেখানে রিকশা যাতে কোনোভাবেই যাতে রিকশা না ঢুকতে পারে সে ব্যবস্থা আমরা করেছি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top