রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে (৭) ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩৪)।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
আদালত সূত্র জানায়, বুধবার বিকেল সোয়া তিনটার দিকে কড়া নিরাপত্তায় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আসামির জবানবন্দি রেকর্ড ও তাকে কারাগারে আটক রাখার দুটি পৃথক আবেদন করেন। আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিতে সম্মত হওয়ায় বিচারক খাসকামরায় তার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে পুলিশের দেওয়া আবেদনে ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়, নিহত শিশু রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে নিজের বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিশুটির পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে অভিযুক্ত প্রতিবেশীর ফ্ল্যাটের দরজার সামনে শিশুটির জুতো দেখতে পান স্বজনরা। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়ির অন্যান্য লোকজন ও প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। ভেতরে গিয়ে শয়নকক্ষের খাটের নিচে শিশুটির মস্তকবিহীন রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে বাথরুমের ভেতরে একটি বালতির মধ্য থেকে তার খণ্ডিত মাথাটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মূলত মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশু রামিসার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। পাশবিক নির্যাতনের পর তার সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার পরপরই কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। এই ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।