বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, দেশের সামনে বর্তমানে পানি সংকট, পরিবেশ বিপর্যয় এবং সাম্প্রদায়িক উসকানি—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এসব সংকট মোকাবিলায় দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আয়োজিত ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, পানির সংকট শুধু পানির অভাবের বিষয় নয়; এটি পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়, নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে যায় এবং কৃষি ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, উজানে বিভিন্ন নদীতে বাঁধ ও পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পানিপ্রবাহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষিজমির ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, শুধু কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এ ধরনের জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ বিষয়ে জাতীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রয়োজন। রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ এবং সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশের ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও উদ্বেগজনকভাবে কমে যাচ্ছে। খাল খনন, পানি সংরক্ষণ এবং কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। তাই পানি ও পরিবেশের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধেও সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান দুদু এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান আলীসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।