ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা সুপারস্টার থালাপতি বিজয়। স্থানীয় সময় রবিবার (১০ মে) সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ে জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে তার শপথ অনুষ্ঠিত হয়।
অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে নাম লিখিয়েই জননেতা বনে যাওয়া চন্দ্রশেখরন জোসেফ বিজয় ওরফে থালাপতি বিজয় ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন না পাওয়ায় সরকার গঠন করতে পারছিল না টিভিকে। অন্যদিকে, দলপতি বিজয় দুটি আসনে জয় পাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী তাঁর একটি আসন ছেড়ে দিতে হয়। সেক্ষেত্রে টিভিকের বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭।
৫টি আসনে জয় পাওয়া কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করার পর তাদের মোট আসন দাঁড়ায় ১১২। কিন্তু সরকার গঠন করার জন্য বিধানসভার মোট ২৩৪ আসনের মধ্যে প্রয়োজন ছিল অন্তত ১১৮টি আসন।
শুক্রবার দুই বাম দল সিপিএম ও সিপিআই টিভিকের প্রতি সমর্থনের কথা ঘোষণা করে। এই দুই দলের চার আসন মিলিয়ে সংখ্যাটি ১১৬ তে গিয়ে ঠেকে। কিন্তু আরও দুই আসনের ঘাটতি রয়েই যায়। ফলে শনিবার শপথ গ্রহণ করা হয় না বিজয়ের।
শনিবার দ্রাবিড় তামিল জাতীয়তাবাদী দল ভিডুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির (ভিসিকে) ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) টিভিকের প্রতি শর্তহীন সমর্থন জানায়। বিধানসভায় এই দুই দলের প্রত্যেকের দুইটি করে আসন থাকায় তাদের সমর্থনে টিভিকের নেতৃত্বাধীন জোটের মোট আসন ১২০টিতে পৌঁছে যায়। এতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ এর ‘ম্যাজিক ফিগার’ পার হয়ে যায় টিভিকের।
এর মধ্য দিয়ে চার দিন ধরে চলা রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান হয়। এরপর টিভিকে প্রধান, রাজ্যপাল (গভর্নর) আরলেকারের সঙ্গে দেখা করে ১২০ বিধায়কের সমর্থনের চিঠি উপস্থাপন করেন। ফলে সব উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে থালাপতি বিজয়ের দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান রাজ্যপাল।
এর আগে বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার- পরপর তিন দিন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন বিজয়, কিন্তু আরলেকার বিধানসভায় টিভিকের প্রয়োজনীয় প্রতিনিধিত্ব নেই জানিয়ে তার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।